বিশ্ববাজারে আবারও কমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৮৭ দশমিক ৬৯ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩০ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৮১ দশমিক ৯৭ ডলারে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার পূর্বাভাসই মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় বিভিন্ন সংস্থা তেলের চাহিদা নিয়ে তাদের পূর্বাভাস কমিয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে পেট্রোলিয়াম রপ্তানিকারক দেশগুলোর সংস্থা (ওপেক) ২০২৬ সালে বিশ্বে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দৈনিক ৫ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় দাম আরও বড় পতনের মুখে পড়ছে না। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তাঝুঁকি সরবরাহ ব্যবস্থাকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, চলতি বছর বিশ্বে তেলের চাহিদা দৈনিক ১৬ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমতে পারে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ থাকা এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে তেলের ব্যবহার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে একদিকে চাহিদা কমার পূর্বাভাসে তেলের দাম নিম্নমুখী হলেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা বাজারে দামের পতন সীমিত রাখছে।
এমএ//