ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষকে স্মরণ করে সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) নেপালে পালিত হচ্ছে জাতীয় শোক দিবস। এ উপলক্ষে দেশটির সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে থাকা নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।
বন্যার ১৩তম দিনে এই শোক পালন করা হচ্ছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, ১৩তম দিনকে শোক পালনের শেষ দিন হিসেবে ধরা হয়। এদিন নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মীয় আচার পালন করা হয় এবং স্বজনরা একে অপরের বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানান।
তবে এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলমান থাকায় জাতীয় শোক উপলক্ষে বড় কোনো সরকারি কর্মসূচি রাখা হয়নি।
জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল রয়টার্সকে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধান অভিযান অব্যাহত থাকায় সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির আয়োজন করেনি।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্তের হিমালয় অঞ্চলে একটি হিমবাহের বিশাল অংশ ভেঙে নদীতে পড়ে। এতে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথরের ধস নামে এবং ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৫ হাজার ৫০০ জনের বেশি।
এরই মধ্যে উদ্ধারকারীরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই জলবিদ্যুৎকর্মীকে উদ্ধার করা হয়। একই দিনে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া একটি বাড়ি থেকে এক নেপালি নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

সোমবার বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করছেন নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল।
তার সহকারী জানিয়েছেন, তিনি দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখবেন।
এদিকে রাজধানী কাঠমান্ডুতে নিখোঁজ স্বজনদের উদ্ধারে দ্রুত অভিযান চালানোর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর কার্যালয়ের কাছে অবস্থান নিয়েছেন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা।
নিখোঁজ স্বামীকে খুঁজতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সুমনা শ্রেষ্ঠা। তার ৫৫ বছর বয়সী স্বামী পেশায় পরামর্শক ভূতত্ত্ববিদ। বন্যার দিন ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু আড়াই তলা কার্যালয়টি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
সুমনা বলেন, ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই প্রকল্পে উদ্ধার তৎপরতার কোনো খবর তারা পাননি। এখন তাদের একমাত্র ভরসা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা এবং স্বামীকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা।
একই প্রকল্পে কর্মরত ৫২ বছর বয়সী প্রকৌশলী নিরাজ শ্রেষ্ঠার ছবি হাতে অবস্থান করেন তার ভাই মহেশ প্রসাদ শ্রেষ্ঠা।
তিনি বলেন, দুর্যোগের ষষ্ঠ বা সপ্তম দিনে কর্তৃপক্ষ হেলিকপ্টারে করে একটি ছোট খননযন্ত্র পাঠিয়েছিল। উদ্ধারকাজ দ্রুত করতে চীন বা ভারতের মতো দেশ থেকে বড় হেলিকপ্টারে প্রয়োজনীয় ভারী সরঞ্জাম আনার উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৯০০ কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
নিখোঁজদের উদ্ধারে নেপালের সঙ্গে কাজ করছে ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা এবং বিভিন্ন সুড়ঙ্গে অনুসন্ধান চালিয়ে তারা নিখোঁজদের সন্ধান করছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসি//