বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করতে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশল গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। এর অংশ হিসেবে প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ অঞ্চল’ নির্ধারণের পাশাপাশি ওমানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিকল্প নৌপথ চালুর পরিকল্পনা করছে তেহরান।
ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এই নিষিদ্ধ অঞ্চলটি পারস্য উপসাগরের অভ্যন্তরীণ অংশ থেকে হরমুজ প্রণালি পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ইরানের পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেলবাহী ট্যাংকার ওই এলাকায় প্রবেশ করলে তাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।
এ ধরনের বিধিনিষেধের কারণে সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর আন্তর্জাতিক বিমা সুবিধা বাতিল বা স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই নৌপথ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহসেন রেজাই হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া তথ্যের বিরোধিতা করেন।
তিনি বলেন, নেভিগেশন ব্যবস্থা বন্ধ রেখে ওমানের উপকূলীয় জলসীমা দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা জাহাজগুলোর একটি বড় অংশ হামলার শিকার হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিকল্প নৌপথ চালু এবং নিষিদ্ধ অঞ্চল কার্যকর করার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সান ফ্রান্সিসকো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিফেন জুনেস মনে করেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থাকা সামরিক চাপ আরও বাড়বে। মার্কিন বাহিনীকে বিস্তৃত জলসীমাজুড়ে অতিরিক্ত টহল দিতে হতে পারে।
একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ পরিচালনা নিয়ে শিপিং কোম্পানি ও বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিশ্চয়তাও বাড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌপরিবহন ব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসি//