কানে হেডফোন, চোখেমুখে অদ্ভুত উচ্ছ্বাস, আর হঠাৎই বাঁধভাঙা অট্টহাসি! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত বিচরণ করলে এমন দৃশ্য নিশ্চয়ই চোখে পড়েছে। কখনো মজার কথোপকথনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, কখনো আবার কোনো হাস্যরসাত্মক ভিডিওর সঙ্গে—এক যুবকের অট্টহাসির ছোট্ট ক্লিপ এখন ইন্টারনেটের পরিচিত অনুষঙ্গ।
মজার বিষয় হলো, এই হাসির পেছনের মানুষটিকে অনেকেই চেনেন না। অথচ তার কয়েক সেকেন্ডের সেই প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের নানা প্রান্তে। মিম, ছোট ভিডিও কিংবা হাস্যরসাত্মক সম্পাদনায় বহুবার ফিরে আসে একই দৃশ্য।
ইন্টারনেটের এই বহুল ব্যবহৃত হাসির ক্লিপের মালিক মুতাহার আনাস। ভারতীয় বংশোদ্ভূত কানাডীয় এই কনটেন্ট নির্মাতা কানাডার অন্টারিওর টরন্টোতে বসবাস করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার বড় অনুসারী গোষ্ঠী রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১০ লাখের বেশি। ইউটিউবে সেই সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। ‘সাম অর্ডিনারি গেমস’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করেন তিনি। সেখানে মূলত কম্পিউটার গেম, প্রযুক্তি ও সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করেন মুতাহার।
একটি হাসি, তারপরই বদলে গেল গল্প
মুতাহারের যে হাসি আজ অসংখ্য মিম ও ছোট ভিডিওর অংশ, সেটির জন্ম অবশ্য কোনো পরিকল্পিত অভিনয় থেকে নয়। ঘটনাটি ২০১৬ সালের।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি খেলাধুলার ভিডিও সম্প্রচারের সময় হঠাৎই অদ্ভুত ভঙ্গিতে হেসে ওঠেন মুতাহার। সেই মুহূর্তটি ছিল একেবারেই স্বতঃস্ফূর্ত। তখন অবশ্য ওই হাসি নিয়ে বিশেষ কোনো আলোচনা হয়নি।
কয়েক বছর পর মুতাহারের সেই পুরোনো ভিডিওর একটি অংশ অন্য এক কনটেন্ট নির্মাতার নজরে আসে। পুরো ভিডিও থেকে অট্টহাসির কয়েক সেকেন্ড আলাদা করে সেটি নতুন করে প্রকাশ করা হয়।
আর সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন অধ্যায়।
ছোট্ট সেই ভিডিও অংশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। একের পর এক ব্যবহারকারী ক্লিপটি নিজেদের মতো করে বিভিন্ন ভিডিও, মিম ও হাস্যরসাত্মক পোস্টে ব্যবহার করতে শুরু করেন। মুহূর্তের প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে ইন্টারনেটের সর্বজনীন হাসির প্রতীক।
মিম সংস্কৃতিতে স্থায়ী জায়গা
বর্তমানে মুতাহারের সেই অট্টহাসির ক্লিপকে নানা ধরনের পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। কারও অপ্রত্যাশিত কাণ্ড, বন্ধুর মজার কথা কিংবা কোনো হাস্যকর ঘটনার পর সেই ক্লিপ যেন হয়ে উঠেছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভাষা।
বিশেষ করে ছোট ভিডিও ও হাস্যরসাত্মক কনটেন্ট তৈরিতে মুতাহারের হাসি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। ভিডিও সম্পাদনার সময় কয়েক সেকেন্ডের সেই দৃশ্য জুড়ে দিলেই অনেক সময় তৈরি হয় বাড়তি হাসির আবহ।
অদ্ভুত ব্যাপার হলো, মুতাহার আনাসের পরিচিতি মূলত গেম ও প্রযুক্তিবিষয়ক কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে হলেও বিশ্বজুড়ে তার সবচেয়ে বেশি পরিচিতি এনে দিয়েছে একটি স্বতঃস্ফূর্ত হাসি।
ইন্টারনেটের দুনিয়ায় এমন ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। কোনো একটি মুহূর্ত কখন, কীভাবে মানুষের নজর কাড়বে—তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। মুতাহারের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। নিজের অজান্তে ২০১৬ সালে ধারণ করা কয়েক সেকেন্ডের একটি হাসি বহু বছর পর ফিরে এসে জায়গা করে নিয়েছে বিশ্বজুড়ে মিম ও ছোট ভিডিওর সংস্কৃতিতে।
একসময় যে হাসি ছিল নিছক একটি গেমিং মুহূর্তের অংশ, সেটিই এখন লাখো মানুষের কাছে পরিচিত এক ডিজিটাল প্রতিক্রিয়া।
এসি//