ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা। গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, গাজার পরিস্থিতিতে বিশ্ব নিষ্ক্রিয় থাকলে ফ্রান্সসহ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর অবস্থানের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়বে।
তিনি বলেন, প্রায় এক বছর আগে ফ্রান্স কয়েকটি দেশের সঙ্গে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু গাজায় চলমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সেই স্বীকৃতির বাস্তব অর্থ কী—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, শান্তির কথা বলা হলেও এর ফলে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। এমন অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব থাকবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে ইসরাইল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে—এমন ধারণা দেশটির বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে জাতিসংঘের একই অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজা নিয়ে তার শান্তি পরিকল্পনাকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। পরে হোয়াইট হাউস ম্যাক্রোঁর সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ট্রাম্পের চেয়ে বেশি কেউ কাজ করেনি।
এদিকে অধিবেশনের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। এতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ অংশ নেন।
বৈঠকে বার্নহাম বলেন, ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমবে। কয়েক দশক ধরে এ সমাধানের কথা বলা হলেও এখন সেটি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বার্নহাম জানান, পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি থেকে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ই১ এলাকায় ইসরাইলের বসতি প্রকল্প দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে বাধা তৈরির একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা।
অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১০ কোটি কানাডীয় ডলার বা প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি। দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখতেই এই অর্থ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ঘোষিত অর্থের ৮০ শতাংশ মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও রয়েছে।
কার্নি বলেন, গাজায় ফিলিস্তিনিরা এখনও ব্যাপক মানবিক দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে হামাস, ইরান ও ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে ইসরাইল ‘অস্তিত্বের হুমকি’র মুখে রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পশ্চিম তীরের ই১ বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করে কার্নি জানান, ওই বসতিগুলো থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছে কানাডা। এ ধরনের বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া দেশের সংখ্যা এখন ১২টি।
এমএ//