দেশজুড়ে

টাঙ্গাইলে সেতুতে রডের বদলে বাঁশ: প্রকৌশলী বরখাস্ত

টাঙ্গাইলের বাসাইলে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজের ঢালাইয়ে রডের স্থানে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদারকিতে অবহেলার কারণে সংস্থাটির আরও দুই জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত তিনটি পৃথক আদেশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানায়, 'গ্রামীণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প'-এর আওতায় বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া এলাকায় মরাগাঙ্গী নদীর ওপর ৯০ দশমিক শূন্য ৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ চলছিল। এতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।

মেসার্স ইউনুছ আল মামুন ও মেসার্স জাকির এন্টারপ্রাইজ নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে কাজটি করছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া কাজটির মেয়াদ চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়িয়ে কাজ চালানো হচ্ছিল। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে সেতুর স্ল্যাব ঢালাইয়ের সময় রডের জায়গায় বাঁশ ব্যবহার করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ আটকে দেন। পরবর্তীতে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির প্রতিনিধি দল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

এলজিইডির আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত উপাদানের পরিপূরক হিসেবে বাঁশ ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। এ অপরাধে বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগে টাঙ্গাইল জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন এবং বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমানকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিজে আর কোনো নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে পৃথক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানায়, এ ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। নির্মাণকাজে রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানই নয়, তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। তদন্ত শেষে দোষী প্রমাণিত হলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #টাঙ্গাইল #এলজিইডি #প্রকৌশলী #বরখাস্ত