২০১১ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি বিক্রিরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় এক বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশে এনামুল পেট্রোলপাম্পের পেছনের নির্জন এলাকায় আসামিদের কবলে পড়েন। তাকে জোর করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিনজন পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করেন এবং অপর তিনজন এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের ঘটনাটি জানান। শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা সদর থানায় মামলা করেন।
মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার ইউনুস কসাইয়ের ছেলে আনিস রানা, মুসলিমনগর এলাকার মাইরুদ্দিনের ছেলে সাইফুল ইসলাম এবং ভোট কসাইয়ের ছেলে মো. দুলাল। আদালত তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।
এ ছাড়া পৌর শহরের মুসলিমনগর এলাকার মো. সেলিমের ছেলে আনিছুর, বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর খতু এবং বজলুর ছেলে মো. লালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আই/এ