আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রক্ষণাত্মক খেলে সমালোচনা কুড়ানো ইংল্যান্ড এবং স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের কাছে আটকে যাওয়া ফ্রান্স, দুই দলই কিছুটা হতাশা আর আক্ষেপ নিয়ে মুখোমুখি হয়েছিল তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। কিন্তু ম্যাড়ম্যাড়ে হওয়ার আভাস দেওয়া সেই ম্যাচটিই শেষ পর্যন্ত দেখলো মায়ামি স্টেডিয়ামের ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শক।
রোববার (১৯ জুলাই) বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১০ গোলের রোমাঞ্চকর এক রেকর্ড গড়ল ইংলিশরা। ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর ছেলেদের ফুটবলে এবং দেশের বাইরে নিজেদের ইতিহাসে এটাই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য।
খেলার প্রথমার্ধেই ফরাসিদের ওপর চড়াও হয়ে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইস জালের ঠিকানা খুঁজে নেওয়ার পর, ১৮ মিনিটে তার পাস থেকেই ব্যবধান বাড়ান এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ড এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) এবেরেচি এজের অ্যাসিস্টে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন সাকা। ১৯৩০ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম প্রথমার্ধেই ৪ গোল খাওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ফরাসিদেরা
কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী এই ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর জোর চেষ্টা চালায় ফ্রান্স। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের সহায়তায় জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। এই জোড়া গোলের সুবাদে লিওনেল মেসিকে (২১ গোল) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের রেকর্ড এখন ফরাসি ফরোয়ার্ডের দখলে, যা তাকে ২০২৬ আসরের গোল্ডেন বুটের দৌড়েও সবার ওপরে রেখেছে। এর মাঝেই ৫৪ মিনিটে এমবাপের পাস থেকে ফ্রান্সের হয়ে আরেকটি গোল শোধ করেন ব্র্যাডলি বারকোলা।
ম্যাচের ৮৭ মিনিটে সফল পেনাল্টি কিকে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাকা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় ইংলিশ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে এবং ১৯৫৮ সালে পেলের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন এই গানার তারকা। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে (৯৬ মিনিট) দায়ত উপামেকানোর অ্যাসিস্টে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করলেও, ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যামের গোলে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয়।
শেষ গোলটির মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোলটি পান বেলিংহ্যাম, যা এক বিশ্বকাপে যেকোনো ইংলিশ ফুটবলারের জন্য সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। এই ম্যাচের মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলের রেকর্ড, এবং এটিই এখন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ।
এদিকে পরাজয়ের দিনেও অনন্য এক কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে। টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম অ্যাসিস্ট করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ১৯৭০ বিশ্বকাপে গড়া কিংবদন্তি পেলের (৬টি অ্যাসিস্ট) রেকর্ড। তবে ফরাসিদের জন্য দিনটি ছিল চরম হতাশার। কেননা বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে কখনোই তারা এক ম্যাচে ৬ গোল হজম করেনি এবং যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দীর্ঘ ৬৬ বছর পর এই প্রথম তারা ৬টি গোল খেলো।
আর/আই