বৃষ্টি শুরুর আগেই সকাল থেকে ঢাকার আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে বৃষ্টির তীব্রতা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় একটানা বৃষ্টিতে জনজীবন কিছুটা থমকে যায়, তবে দীর্ঘদিনের গরমে হাঁসফাঁস করা মানুষের জন্য এটি হয়ে ওঠে এক ধরনের স্বস্তির বার্তা।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত লঘুচাপের বর্ধিতাংশের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় এই পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এর ফলে সারাদেশে থেমে থেমে বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে এমন বৃষ্টিপাত চলতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। পাশাপাশি ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ অন্যান্য অঞ্চলেও বজ্রসহ বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
তবে এই স্বস্তির বৃষ্টির মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন ভোগান্তি। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, অনেক সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নিচু এলাকাগুলোতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। কোথাও কোথাও কালবৈশাখী ধরনের ঝোড়ো হাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির কারণে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধির আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, গরমে ক্লান্ত নগরজীবনে এই বৃষ্টি একদিকে যেমন স্বস্তির পরশ বয়ে এনেছে, অন্যদিকে তেমনি সৃষ্টি করেছে জলাবদ্ধতা ও ঝড়ো হাওয়ার অনিশ্চয়তা।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী বুধবার থেকে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। তবে পুরোপুরি স্থিতিশীল আবহাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে, কারণ আর্দ্রতা ও মেঘলা পরিস্থিতি আপাতত অব্যাহত থাকবে।
এসি//