যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ করেন। পোস্টটির বরাতে খবরটি প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার পর ইরানের উসকানিতে হুথিরা আবারও সক্রিয় হয়ে সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে।
তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়াতেই এ তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
একই পোস্টে ইরানকে নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও শক্তিশালী অর্থনীতিহীন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প।
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, আসন্ন নির্বাচনে নিজে প্রার্থী না হলেও ভোটের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক হামলা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন। হুথিদের কর্মকাণ্ডের কথা তিনি কখনো ভুলবেন না বলেও উল্লেখ করেন।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনটিকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ওপর এক ধরনের গণভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দেশটিতে জ্বালানি তেলের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
সম্প্রতি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ন্যাশনাল ওপিনিয়ন রিসার্চ সেন্টারের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধিতা করছেন। তবে ট্রাম্প এসব জরিপকে ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে জনমনে যুদ্ধবিরোধী মনোভাবকে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের আশা করছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ বাধার মুখে পড়তে পারে।
অন্যদিকে হুথিদের হামলার জবাবে সৌদি আরবও ইয়েমেনের সানা ও হুদাইদাহ শহরের তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা
এসি//