আন্তর্জাতিক

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড, প্রাণভিক্ষা চায় পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ফেসবুকে করা একটি মন্তব্যের জেরে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২৪ বছর বয়সি শ্রীলঙ্কান নাগরিক আনোজন শিবরাশার প্রাণভিক্ষা চেয়েছে তার পরিবার। ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আনোজন সৌদি আরবে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ধর্মীয় বিতর্কের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে শ্রীলঙ্কায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় নেতা ও নাগরিক সংগঠনও সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

জুনের শেষ দিকে শ্রীলঙ্কায় হিন্দু ধর্মীয় তীর্থযাত্রাকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এক মুসলিম যুবককে একটি কুকুরকে লাথি মারতে দেখা যায়। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে ধর্মীয় বিতর্ক শুরু হলে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মের একটি দেবতাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। এর প্রতিক্রিয়ায় আনোজন তামিল ভাষায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরে আনোজন ওই মন্তব্য মুছে দিয়ে একটি ভিডিওতে ক্ষমা চান। তবে এর আগেই মন্তব্যটির স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। আনোজনের ভাই হামসিদন শিবরাশার দাবি, শ্রীলঙ্কার কয়েকজন ব্যক্তি তার ভাইয়ের কর্মস্থলে ই-মেইল করে বিষয়টি জানান। পরে তার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে।

জুলাইয়ে আনোজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার ব্যক্তিগত ডিভাইস জব্দ করা হয় এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলোও মুছে দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ।

শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ জানিয়েছেন, প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। তার সাজা কমানোর আবেদন করা হলেও তা খারিজ হয়। 

এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর মামলায় বড় পরিবর্তন আসে। সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনে আনোজনের বিচার চায়। আপিল আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে তার সাজা মৃত্যুদণ্ডে উন্নীত করে।

তবে এখনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। ফলে সাজা কখন কার্যকর হতে পারে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আনোজনকে বাঁচাতে শ্রীলঙ্কা সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ করছে। ২১ সেপ্টেম্বর তার পরিবারের সদস্যরা প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় প্রেসিডেন্ট তাদের আশ্বস্ত করেন এবং আনোজনের জন্য সাধারণ ক্ষমা আদায়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বৌদ্ধ ও হিন্দু ধর্মীয় নেতারাও। রামান্না নিকায় ও অমরপুর মহা নিকায়ের শীর্ষ বৌদ্ধ নেতাদের পাশাপাশি হিন্দু ধর্মীয় নেতারা প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে আনোজনের স্থানীয় আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে চার সদস্যের একটি শ্রীলঙ্কান আইনি প্রতিনিধি দল সৌদি আরব যাচ্ছে। তারা মামলার পরবর্তী করণীয় নিয়েও আলোচনা করবে।

তবে ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তার ভাই জানান, বিষয়টি সৌদি দূতাবাসকে জানিয়ে খোঁজ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখনো দূতাবাস থেকে কিছু জানানো হয়নি।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সৌদি আরব #আনোজন শিবরাশা