চলতি অর্থবছরেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। আসন্ন এসব নির্বাচনে থাকছে না দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক। ফলে নির্বাচনী কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারাও আইন অনুযায়ী প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে কথা বলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা জানতে চেয়েছেন সারাহ কুক। জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতেই আইন সংশোধন করা হয়েছে। এখন থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হবে না। ফলে কোনো দলীয় মনোনয়ন কিংবা দলীয় প্রতীকও থাকবে না।
মীর শাহে আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর। নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হলে বিএনপির অবস্থান কী হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন যেহেতু দলীয়ভাবে হচ্ছে না, তাই কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ও থাকছে না। আইন অনুযায়ী যারা প্রার্থী হওয়ার যোগ্য, তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে দলীয় মনোনয়ন বা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তিনি জানান, স্থানীয়ভাবে সমর্থিত প্রার্থীদের পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে স্থানীয় বিএনপিকে সব ইউনিয়নে একক সমর্থিত প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি আলাদাভাবে কোনো দলীয় অবস্থান নেবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করাই সরকারের মূল দায়িত্ব। বৈধ প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তারা যাতে নির্বিঘ্নে প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনা রয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে না হওয়ায় আইন অনুযায়ী যোগ্যতা থাকা সব বৈধ প্রার্থীরই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
এসি//