পটুয়াখালীতে শতবছরের পুরনো কোটখালী ফাজিল মাদ্রাসা ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরো মাদ্রাসা ভবনটির ভিমের রড বের হয়ে গেছে এবং ছাদের পলেস্তার খসে পড়ছে। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ছে। বৃষ্টির দিনে ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস ও পরীক্ষা দিতে হয় শিক্ষার্থীদের। যে কোনো মূহুর্তে ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা। জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছাত্রীদের পাঠদান। নেই সংস্কারের কোন উদ্যোগ।
সম্প্রতি সরেজমিনে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের কোটখালীতে অবস্থিত মাদ্রাসায় গেলে এ চিত্র দেখা যায়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জনিয়েছে, ওই মাদ্রাসায় নির্মাণাধীন চার তলা ভবনটির কাজও চলছে কচ্ছপ গতিতে। চলতি বছরের ৩০ জুন কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখনও ২০ থেকে ২৫ ভাগ প্রকল্পের কাজ বাকি রয়েছে।
১৯২৭ সালে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম পর্যায়ে ইবতেদায়ী শিক্ষা দিয়ে মাদ্রাসার কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৫৫ সালে দাখিল, ১৯৬৯ সালে আলিম ও ১৯৮৬ সালে ফাজিল (ডিগ্রি) স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়। বর্তমানে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। অধ্যক্ষসহ শিক্ষক রয়েছে ৩০ জন এবং কর্মচারি রয়েছে ৭ জন।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৮১ সালে কুয়েত সরকারের অর্থায়ণে ১৮টি কক্ষ বিশিষ্ট মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। কিন্তু প্রকল্পের একতলার কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই প্রকল্প বন্ধ করে দেয় তৎকালীন এরশাদ সরকার। যার কারণে ভবনের একতলার জল ছাদসহ প্রকল্পের পুরো কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ভবনে বর্তমানে এ জরাজীর্ণতার সমস্যা দেখা দিচ্ছে। নির্মাণের পর থেকে অদ্যাবধি কোনো সংস্কার না হওয়ায় পুরো ভবনটি এখন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভবনটিতে পাঠদান উপযোগী নেই। ইতোমধ্যে শ্রেণিকক্ষসহ পুরো ভবনটির পলেস্তার খসে খসে পড়ছে এবং ভিমের রড বের হয়ে গেছে। শত বছরের পুরানো এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত লেখাপড়া করানো হচ্ছে বটে। কিন্তু এ প্রতিষ্ঠানটিতে নেই ছাত্র-ছাত্রীদের আলাদা কোনো কমন রুম, নেই শিক্ষক মিলনায়তনসহ প্রয়োজনীয় বাথরুম।

দাখিল এর ছাত্রী সাবেকুন নাহার বলেন, আমরা ঝুঁকিপূর্ণ এ ভবনটিতে পাঠগ্রহন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে নিচ্ছি । সম্প্রতি প্রবল বৃষ্টির সময় প্রতিষ্ঠানের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। ছাদ থেকে পানি চুইয়ে পড়ায় আমরা ছাতা মাথায় দিয়ে পরীক্ষা দিয়েছি। দু/একটি কক্ষে পলিথিন দেওয়া হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। কখনও কখনও পলেস্তার খসে পড়ছে ক্লাস রুমেই। এতে যে কোনো মূহুর্তে বড় ধরণের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজির আহমেদ খান,বলেন, মাদ্রাসার ভবনটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ হয়ে পরেছে। ভবনের পলেস্তার খসে পরছে এবং বর্ষা হলে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়তে থাকে। ইতোমধ্যে ছাদ সংস্কারের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিলাম এবং ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজও হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদারের কাজে গাফিলতির কারণে আগের চেয়ে আরও ভবনের অবস্থা খারাপ হয়েছে। নতুন ভবনটি নির্মাণ সম্পন্ন হলে কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হবে।

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বায়ান্ন টিভিকে বলেন, মাদ্রাসা ভবনটিতে পাঠদান এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। ওই ভবনে শিক্ষার্থীদের ক্লাস ও পরীক্ষা না নেওয়ার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চার তলার নতুন একটি ভবনের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করে সেখানে স্থানন্তর করার জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ করা হয়েছে। এরপরও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির খোঁজ-খবর নিচ্ছি।
নির্বাহী প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের পটুয়াখালী জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুল কবির জানান, ওই মাদ্রাসায় ৯টি শ্রেণী কক্ষসহ চারতলার একটি ভবনের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করছি এ ভবনটি চলতি জুলাই মাসে হস্তান্তর করতে পারবো। আসবাবপত্র চলে এসেছে। এ ভবনটি চালু হলে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষের সমস্যা থাকবে না।
আই/এ