বিশ্বকাপের মঞ্চে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফুটবল দুনিয়ায় নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিয়েছেন বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিভা। প্রতি আসরেই ২১ বছরের কম বয়সী ফুটবলারদের খেলার মান, দক্ষতা এবং দলের জয়ে ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে 'সেরা উদীয়মান ফুটবলার' বা 'সেরা তরুণ খেলোয়াড়'-এর পুরস্কার দেওয়া হয়।
ফিফার মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা পাওয়ার লড়াইয়ে এবার কয়েকজন সম্ভাবনাময় তারকা বেশ ভালোভাবেই টিকে আছেন।
২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়া এই পুরস্কারের সর্বশেষ ট্রফিটি জিতেছিলেন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে আলবিসেলেস্তেদের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁরা
তবে চলমান আসরে এই ট্রফি জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন স্পেনের দুই তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবার্সি। ইউরোপীয় ফুটবলের এই দুই পরাশক্তিকে ফাইনালে তোলার পেছনে তাদের ভূমিকা ছিল অনবদ্য, যা তাদের পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে।
সেরা তরুণের এই তালিকায় আরেকটি আলোচিত নাম মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরাও। চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মেক্সিকোর ইতিহাসেও তিনি সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপার। নকআউট পর্বে ইকুয়েডরের বিপক্ষে শুরুর একাদশে মাঠে নেমে পেলের গড়া একটি প্রাচীন রেকর্ড স্পর্শ করেছেন মোরো।
এছাড়া ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়েও এই পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার। ফরাসিদের কঠিন সময়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন তিনি।
তালিকায় আরও আছেন সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ডের নিকো ও'রিলি, তবে শেষ চার থেকে দল বাদ পড়ায় তাঁর সম্ভাবনা কিছুটা কমেছে।
মরক্কোর মাঝমাঠের ভরসা আইয়ুব বুয়াদ্দিও তার চমৎকার পাসিং ও ড্রিবলিং দিয়ে টুর্নামেন্টে নজর কেড়েছেন। ফরাসি ক্লাব ফুটবলে ইতিমধ্যেই নিজের জাত চেনানো এই মিডফিল্ডার সম্প্রতি লিগ ওয়ানে দ্রুততম ৫০ ম্যাচ খেলার অনন্য এক রেকর্ড গড়েছেন। ফলে ফিফার সংক্ষিপ্ত তালিকায় তার নামও জোরালোভাবে আসছে।
দলের ধারাবাহিকতা এবং ফাইনালে ওঠার সমীকরণে স্পেনের ইয়ামাল ও কুবার্সি অন্যদের চেয়ে খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, শেষ পর্যন্ত কোন তরুণের হাতে ফিফার এই ট্রফিটি উঠবে তা দেখতে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন সমাপনী অনুষ্ঠানের দিকে।
আর/আই