সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াইয়ের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচকে নিজের জন্য ‘বিশেষ’ বলে উল্লেখ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কারণ, দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
রোববার (১২ জুলাই) কোয়ার্টার ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একইভাবে নরওয়েকে ২-১ গোলে পরাজিত করে সেমিফাইনালে ওঠে ইংল্যান্ড। দুই দলের বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায়।
ম্যাচের আগে ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ১৯৮৬ সালের আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ ম্যাচের স্মৃতি তার কাছে মূলত ভিডিও ও ছবির মাধ্যমেই পরিচিত।
তার ভাষায়, আর্জেন্টিনার মানুষ এখনও সেই ম্যাচের মুহূর্তগুলো বারবার স্মরণ করে এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরে।
তবে অতীতের ইতিহাসের চেয়ে বর্তমানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
তিনি বলেন, প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, নিজেদের খেলার ধরন ধরে রাখাই দলের মূল লক্ষ্য। তবে ইংল্যান্ডের মতো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে নামা সবসময়ই আলাদা অনুভূতির।
মেসি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এই ম্যাচটি তার জন্য আরও বিশেষ। কারণ জাতীয় দলের হয়ে প্রায় সব বড় ফুটবল শক্তির বিপক্ষে খেললেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কখনো মাঠে নামা হয়নি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। তাই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েই ম্যাচে নামতে চান তিনি।
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের দ্বৈরথ বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায়। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল এবং পরে একক নৈপুণ্যে করা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। আবার ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের লাল কার্ডও দুই দলের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে আরও আলোচনায় নিয়ে আসে।
সেমিফাইনালকে ঘিরে দলে আত্মবিশ্বাসের কথা জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ।
তার মতে, মাঠের বাইরে এই ম্যাচ ঘিরে ইতিহাস, আবেগ ও স্মৃতির অনেক গল্প থাকলেও মাঠে নেমে সেটি কেবল আরেকটি বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ছোটবেলা থেকে এমন ম্যাচ খেলার স্বপ্ন দেখেছেন তারা, তাই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ লড়াই করারই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল করা হুলিয়ান আলভারেজও ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, বিশ্বের সেরা চার দলের একটি হিসেবে সেমিফাইনালে ওঠায় তারা গর্বিত। তবে ইংল্যান্ডের দলে অসাধারণ মানের ফুটবলার রয়েছে এবং তারা পুরো টুর্নামেন্টেই ধারাবাহিক ভালো খেলছে। তাই বিশ্রাম নিয়ে সেমিফাইনালের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়াই এখন দলের প্রধান লক্ষ্য।
এই সেমিফাইনালের জয়ী দল আগামী ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ফাইনালে স্পেন অথবা ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে। তাই আটলান্টার এই লড়াই শুধু দুই ফুটবল পরাশক্তির দ্বৈরথই নয়, শিরোপার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখারও শেষ পরীক্ষা।
এসি//