ধারাভাষ্যের জাদুকরের কন্ঠে ফুটবল ঈশ্বর

স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবলে অনেক কিংবদন্তি এসেছেন, আবার বিদায়ও নিয়েছেন। কিন্তু মেসিকে ব্যাখ্যা করতে গেলে পরিসংখ্যানের ভাষা অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা ট্রফির সংখ্যার বাইরেও তিনি এমন এক শিল্পী, যার খেলা অনুভব করতে হয়।

তাই তো বিশ্বের অসংখ্য ধারাভাষ্যকারের কণ্ঠে মেসি কেবল একজন ফুটবলার নন; তিনি এক বিস্ময়, এক শিল্পকর্ম, কখনো বা এক অলৌকিক চরিত্র। সেই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি। তার কণ্ঠে ফুটবল কেবল নব্বই মিনিটের প্রতিযোগিতা নয়, বরং আবেগ, ইতিহাস, কবিতা আর নাটকীয়তার এক অনন্য মিশেল। আর মেসি যখন মাঠে থাকেন, ড্রুরির শব্দ যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। এ কারণেই পিটার ড্রুরির ধারাভাষ্যে বারবার ফিরে আসে জাদু, অলৌকিকতা কিংবা অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলার উপমা। তার শব্দচয়ন মেসির খেলাকে কেবল বর্ণনা করে না বরং দর্শকের অনুভূতিকেও আরও গভীর করে তোলে।

মাঠে মেসির পায়ের কারুকাজ আর মাইক্রোফোনে ড্রুরির কাব্যিক বর্ণনা—দুটো যেন একই শিল্পের ভিন্ন দুটি রূপ।

সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও সেই চিত্রই দেখা গেছে। ম্যাচের শেষ দিকে মেসির দুটি নিখুঁত অ্যাসিস্টে ঘুরে যায় পুরো ম্যাচের মোড়। যে আর্জেন্টিনা কয়েক মুহূর্ত আগেও ছিল বিদায়ের শঙ্কায়, তারাই শেষ পর্যন্ত জায়গা করে নেয় ফাইনালে। সেই পারফরম্যান্স আবারও মনে করিয়ে দেয়—বয়স হয়তো বাড়ে, কিন্তু প্রতিভার আলো ম্লান হয় না।

ফুটবলের ইতিহাসে এমন কিছু সম্পর্ক আছে, যেগুলো অবিচ্ছেদ্য। যেমন পেলের সঙ্গে কালো-সাদা যুগ, ম্যারাডোনার সঙ্গে মেক্সিকো '৮৬, তেমনি আধুনিক ফুটবলে লিওনেল মেসির সঙ্গে যেন জড়িয়ে গেছে পিটার ড্রুরির কণ্ঠও। একজন পায়ের জাদুতে ইতিহাস লেখেন, অন্যজন সেই ইতিহাসকে শব্দে অমর করে রাখেন।

হয়তো এ কারণেই মেসির কোনো অসাধারণ মুহূর্তের পর অনেক দর্শকের মনে প্রথমেই ভেসে ওঠে ড্রুরির কণ্ঠ-

‘‘ সিংহরা যেন মন্ত্রমুগ্ধের মতো নতজানু হয়ে পড়ল এক জাদুকরের ইশারায়! ইংল্যান্ডের সোনালি স্বপ্নের প্রাসাদ ধূলিসাৎ করে দিলেন লিওনেল মেসি—তার সেই অতিমানবিক, বুকভাঙা নিখুঁত কারুকার্যে। গোটা ফুটবলবিশ্ব যখন ভেবে বসেছিল, অবশেষে এই কিংবদন্তিকে পোষ মানানো গেছে, ইংল্যান্ডের দুর্গ যখন নিজেদের অভেদ্য ভাবতে শুরু করেছে—ঠিক সেই মুহূর্তে তিনি সেই দুর্গের ভিত নাড়িয়ে দিলেন। একবার নয়, পরপর দু’বার! তার প্রতিভার দুটি বিদ্যুৎচমক, দুটি এমন পাস যা এমন সব সরু ফাটল খুঁজে বের করল, যা বোধহয় তাঁর চোখ ছাড়া পৃথিবীর আর কারো নজরেই আসত না। ইংল্যান্ডের হাতে ছিল লিড, ছিল প্রত্যাশার প্রদীপ, ছিল গৌরবের এক নতুন অধ্যায় লেখার স্বপ্ন—কিন্তু ভূতুড়ে (ghost) প্রতিভার সামনে কোনো প্রাচীর টেকে না, অলৌকিকতাকে আটকানোর কোনো তালা তৈরি হয়নি এখনো। আর সেই অলৌকিকতার নাম যখন লিওনেল মেসি, তখন তো প্রশ্নই ওঠে না। ‘’

ফুটবল একদিন বদলে যাবে। নতুন নক্ষত্র আসবে, নতুন ইতিহাস লেখা হবে। কিন্তু মেসির পায়ের জাদু আর সেই জাদুকে কাব্যে রূপ দেওয়া পিটার ড্রুরির কণ্ঠ—এই যুগলবন্দি ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #লিওনেল মেসি #আর্জেন্টিনা #ধারাভাষ্যকার পিটার ড্রুরি