বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল মানেই স্নায়ুচাপ, প্রত্যাশা আর অসীম উত্তেজনা। কিন্তু এমন মহারণের আগেও স্পেনের তরুণ বিস্ময় লামিন ইয়ামালের চোখে-মুখে নেই কোনো উদ্বেগ। বরং আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানিয়ে দিলেন, ভয় পাওয়ার কিছু থাকলে সেটা স্পেনের নয়, ফ্রান্সেরই হওয়া উচিত।
মঙ্গলবারের মহারণের আগে সংবাদ সম্মেলনে ১৯ বছরে পা দেওয়া বার্সেলোনার এই তারকা বলেন, ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেন মাথা উঁচু করেই মাঠে নামবে।
কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারানোর পর ইয়ামালের একটি মন্তব্য বেশ আলোচনায় আসে। তখন তিনি বলেছিলেন, সাম্প্রতিক সময়ে স্পেনের বিপক্ষে ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণে ভয় পাওয়ার কথা ফ্রান্সের।
তবে সেই মন্তব্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সুযোগ দিতে চাননি ইয়ামাল। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল আমি ফ্রান্সকে ভয় পাই কি না। আমি শুধু বলেছি, না। আমরা ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন। শেষ পর্যন্ত এটি একটি ফুটবল ম্যাচই।’
জন্মদিন উপলক্ষে নিজের জন্য একটি দামি রত্নখচিত গলার চেইন কিনেছেন স্পেনের এই তরুণ ফরোয়ার্ড। তবে তার কাছে সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত উপহার কোনো অলংকার নয়; বরং বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার টিকিট।
হাসিমুখে ইয়ামাল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তেমন কোনো উপহার পাইনি। আমার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হবে মঙ্গলবার জিতে নিউইয়র্কে ফাইনাল খেলতে যাওয়া।’

চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার গোলের দেখা পেয়েছেন ইয়ামাল। তবে সেমিফাইনালের মতো বড় মঞ্চে নিজের নাম স্কোরশিটে তুলতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
‘আমি শুধু গোলের কথা ভাবি না। কিন্তু এমন ম্যাচে গোল করা অবশ্যই বিশেষ অনুভূতি। আমি এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করছি। এ কারণেই তো এখানে এসেছি,’ বলেন তিনি।
একই সঙ্গে দর্শকদের রোমাঞ্চকর একটি ম্যাচ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন স্পেনের এই উদীয়মান তারকা।
‘এটাই সেই ম্যাচ, যার জন্য পুরো ফুটবল বিশ্ব অপেক্ষা করছে,’ যোগ করেন ইয়ামাল।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের চাপ নিয়েও নির্ভার তিনি।
‘জীবনে ফুটবল ম্যাচের চেয়েও কঠিন অনেক পরিস্থিতি আসে। তাই আমি শান্ত আছি। বাড়তি কোনো চাপ অনুভব করছি না। সব সময়ের মতো খেলব এবং দলের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।’
ফ্রান্সকে চেনে স্পেন, নিজেদের ফুটবলেই বাজি দে লা ফুয়েন্তের
তরুণ তারকার মতোই আত্মবিশ্বাসী স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও। তাঁর পরিকল্পনা পরিষ্কার—ফ্রান্সকে নিজেদের ছন্দে খেলতে না দিয়ে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘ফ্রান্সকে আমরা খুব ভালোভাবেই চিনি। দীর্ঘদিন ধরেই একে অপরের বিপক্ষে খেলছি। তাদের যেমন বিশ্বমানের খেলোয়াড় আছে, আমাদেরও আছে। তাই নিজেদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষের শক্তির জায়গাগুলো নিষ্ক্রিয় করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফুটবলে ভারসাম্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে দল নিজেদের পরিকল্পনা ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, জয় সাধারণত তাদের দিকেই যায়। আমরা শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চাই এবং নিজেদের খেলার ধরন প্রতিপক্ষের ওপর চাপিয়ে দিতে চাই।’

আরও শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে নতুন পরীক্ষা
যদিও আত্মবিশ্বাসে ভরপুর স্পেন, তবু প্রতিপক্ষকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না দে লা ফুয়েন্তে।
গত বছর উয়েফা নেশনস লিগের সেমিফাইনালে ৫-৪ গোলে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। একসময় ৫-১ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ দিকে টানা তিন গোল হজম করেছিল তারা।
সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ‘আগের ম্যাচ আর এই ম্যাচ এক নয়। এবারও আমরা ভালো দিকগুলো ধরে রাখতে চাই, তবে যেসব ভুল হয়েছিল, সেগুলো আর করতে চাই না।’
তাঁর বিশ্বাস, গত দুই বছরে ফ্রান্স আরও পরিণত ও ভয়ংকর দলে পরিণত হয়েছে।
‘আমি মনে করি, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো দল। তাদের খেলোয়াড়রা আরও অভিজ্ঞ হয়েছে এবং নিজেদের আরও উন্নত করেছে। তাই আমাদেরও সেরাটা খেলতে হবে।’
সেমিফাইনালের আগে খেলোয়াড়দের উদ্দেশে দে লা ফুয়েন্তের শেষ বার্তাও ছিল অনুপ্রেরণামূলক।
‘মাঠে নেমে খেলাটা উপভোগ করো। এমন মুহূর্ত জীবনে বারবার আসে না। আমরা যেন নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারি এবং প্রতিপক্ষের শক্তির জবাব মাঠেই দিতে পারি।’
এসি//