বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নামার আগে সুইজারল্যান্ডের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম জোহান মানজাম্বি। চলতি আসরে দলের আক্রমণের অন্যতম ভরসা এই মিডফিল্ডারকে ছাড়াই শেষ আটের লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে সুইসদের।
হাঁটুর চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় মানজাম্বিকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত কোনো ঝুঁকি নেয়নি দল। সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন নিশ্চিত করেছেন, ম্যাচের জন্য তাকে প্রস্তুত করতে চিকিৎসক দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
ইয়াকিন বলেন, “তাকে ফেরানোর জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করেছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে খেলতে পারবে না।”

চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের সাফল্যে বড় ভূমিকা রেখেছেন মানজাম্বি। তিনটি গোল করার পাশাপাশি আরও দুটি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি। শেষ ষোলোয় কলম্বিয়ার বিপক্ষেও হাঁটুর চোটের কারণে খেলতে পারেননি। সেই ম্যাচে গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে সুইজারল্যান্ড।
তবে এবার প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের সবচেয়ে কার্যকর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে না পাওয়া অবশ্যই ইয়াকিনের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলবে।
তার পরও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে না সুইজারল্যান্ড। ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে নামছে তারা। ৭২ বছরের অপেক্ষার পর পাওয়া এই সুযোগকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় পুরো দল।
আর্জেন্টিনাকে মোকাবিলার পরিকল্পনাও পরিষ্কার করেছেন ইয়াকিন।
তার মতে, ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখতে পারলে লিওনেল মেসির প্রভাব অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে সুযোগ পেলেই আক্রমণে ওঠা এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হাই প্রেসিং ফুটবল খেলতে চায় সুইসরা।

অধিনায়ক গ্রানিত জাকাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন, তাদের ভাবনা শুধু মেসিকে ঘিরে নয়।
জাকার ভাষায়, “আমি এখানে শুধু কথা বলতে আসিনি। আমরা পরের ধাপে যেতে চাই, আর সেই লক্ষ্য থেকে খুব বেশি দূরে নেই।”
২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয়ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছিল সুইজারল্যান্ড। অতিরিক্ত সময়ে আনহেল দি মারিয়ার একমাত্র গোলে সেদিন স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল তাদের। তবে সেই ম্যাচের প্রতিশোধ নয়, এবারের লড়াইটিকে নতুন এক সুযোগ হিসেবেই দেখছেন জাকা।
সুইজারল্যান্ড জানে, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে জয় পেতে হলে মানজাম্বির অনুপস্থিতির শূন্যতা দলগত পারফরম্যান্স দিয়েই পূরণ করতে হবে। আর সেটি করতে পারলে ৭২ বছরের অপেক্ষার পর ইতিহাসের নতুন একটি অধ্যায় লেখার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে।