খেলাধুলা

বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে নিজ দেশে বীরের সংবর্ধনায় ভাসলেন সালাহরা

স্পোর্টস ডেস্ক

২০২৬ বিশ্বকাপে দেশের ইতিহাসের সেরা সাফল্য অর্জনের পর বীরের সংবর্ধনায় দেশে ফিরেছে মিশর জাতীয় ফুটবল দল। শেষ ষোলোয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে বিদায় নিলেও শত শত সমর্থকের উচ্ছ্বসিত অভ্যর্থনায় দেশে ফেরেন মোহাম্মদ সালাহ ও তার সতীর্থরা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) এল-আলামেইন বিমানবন্দরের বাইরে লাল, সাদা ও কালো রঙের মিশরের পতাকা হাতে জড়ো হন অসংখ্য সমর্থক। পরে খোলা ছাদের একটি বাসে চড়ে উপকূলীয় শহরজুড়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ফুটবলাররা। সমর্থকদের অনেকের হাতেই ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা। গাজার প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা মিশরের পতাকার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকাও ওড়ান। অনেকের হাতে ছিল দুই দেশের পতাকা কাঁধে জড়িয়ে থাকা প্রধান কোচ হোসাম হাসানের ছবিও।

২০২৬ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ম্যাচ জয়ের স্বাদ পায় মিশর। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেয় দলটি। নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিদায় নিতে হয় ফারাওদের।

তবুও দলের অর্জনে গর্বিত সমর্থকেরা।  বিমানবন্দর থেকে শোভাযাত্রা শুরু হলে হাজারো সমর্থক বাসের পাশে পাশে দৌড়ে, ঢাকের তালে নেচে, দেশাত্মবোধক গান গেয়ে এবং মোহাম্মদ সালাহর নাম লেখা জার্সি পরে ফুটবলারদের স্বাগত জানান তারা। অনেকের হাতে ছিল ‘তোমরা আমাদের গর্বিত করেছ’ লেখা ব্যানার।

সমর্থক মোহাম্মদ জিহাদ বলেন, দলের পারফরম্যান্সে তারা ভীষণ খুশি। খেলোয়াড়দের মনোবলের মতো সমর্থকদের মনোবলও অনেক উঁচুতে রয়েছে।

আরেক সমর্থক ইয়াদ আহমেদ বলেন, মিশর এর আগে কখনও বিশ্বকাপে এত দূর যেতে পারেনি। তাই এই দল নিয়ে পুরো দেশ গর্বিত।

উৎসবের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ বলেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে মিশরের জন্য এটি যেন নতুন শুরুর সূচনা হয়, সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করে যাবেন।

শনিবার (১১ জুলাই) দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের সম্মানজনক পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এদিকে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে রেফারিং নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটি ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে। তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কলিনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

বিশ্বকাপ চলাকালে গাজার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে আলোচনায় ছিলেন প্রধান কোচ হোসাম হাসান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর তিনি মাঠে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ান এবং জয়টি ফিলিস্তিনি জনগণকে উৎসর্গ করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগকে ‘বিশ্বের জন্য লজ্জা’ উল্লেখ করে তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

 

এসি//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিশ্বকাপ #ফিফা #মিশর