স্মার্টফোনের বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখতে বড় ধরনের বিপণন ও উৎপাদন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল। ২০২৭ সালের প্রথম ছয় মাসের (প্রথমার্ধ) মধ্যে বাজারে অন্তত পাঁচটি নতুন মডেলের আইফোন উন্মোচনের লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে ফোল্ডেবল আইফোনের তৈরিতেও বিশেষ জোর দিচ্ছে তারা।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনবিসি ও নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছো
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি ২০২৬ সালের শেষার্ধ থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে এই নতুন ডিভাইসগুলো ধাপে ধাপে বাজারে আসবে। যার মধ্যে প্রযুক্তিপ্রেমীদের বহুল প্রতীক্ষিত ‘আইফোন ১৮’ এবং সম্পূর্ণ নতুন ঘরানার ‘আইফোন এয়ার’ মডেল অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এই নতুন ফোনগুলোর উৎপাদন নির্বিঘ্ন করতে ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধের আসা নতুন মডেলগুলোর জন্য ইতোমধ্যে প্রায় ৮ কোটি হ্যান্ডসেটের যন্ত্রাংশ প্রস্তুত করেছে অ্যাপল।
বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সব মিলিয়ে ২০২৬ সালে কোম্পানিটির মোট আইফোন উৎপাদনের পরিমাণ ২২ কোটি ইউনিট ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে নতুন এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির জয়জয়কার ও এর ফলে সৃষ্ট মেমোরি চিপের তীব্র সংকট।
সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই চিপ সংকট সামাল দিতে একটি বিকল্প পথ খুঁজছে অ্যাপল। চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে যে আইফোনগুলো বিক্রি হয়, সেগুলোর জন্য দেশটির স্থানীয় চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘চ্যাংসিন মেমোরি’ এবং ‘ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস’ থেকে মেমোরি চিপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে তারা।
অবশ্য এই চিপ ক্রয়ের ব্যাপারে অ্যাপল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ চেইনের নানা জটিলতার মধ্যেও ফোল্ডেবল ডিসপ্লে ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভর করে স্মার্টফোনের বাজারে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখাই এখন অ্যাপলের প্রধান কৌশল।
আর/আই