দেশজুড়ে

গাজীপুরে এপেক্সের চার কারখানা বন্ধ

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অবস্থিত এপেক্স হোল্ডিংসের চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট–সংক্রান্ত দাবি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় চার হাজার শ্রমিক হঠাৎ করেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

সম্প্রতি এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড এবং এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেড এই চারটি কারখানার শ্রমিকদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে সার্ভিস বেনিফিট বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাদের দাবির ছিল, ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাসের এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ সুবিধা প্রদান। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ জুন কারখানার নিটিং ফ্লোরে শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।    

বৈঠকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) জানায়, বিদ্যমান শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার (২০জুন) কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে, বর্তমানে চালু থাকা সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা অপরিবর্তিত থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও জানানো হয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।      

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রোববার (২১জুন) শ্রমিকদের একাংশ তাদের দাবি আদায়ে উৎপাদন কার্যক্রমে বাধা দিয়ে কারখানার ভেতরে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।  এর ফলে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চারটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। 

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (২২ জুন) থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, এপেক্স হোল্ডিংসের চারটি কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন। শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে কারখানা এলাকায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

পি/ডি 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #গাজীপুর #এপেক্স হোল্ডিংস