গাজীপুরের কালিয়াকৈরে কেয়া আক্তার নামে পরিচিত ১৭ বছর বয়সী এক তরুণের শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। পরিবার জানিয়েছে, জন্মের পর থেকে মেয়ের পরিচয়ে বেড়ে ওঠা কেয়া বর্তমানে শারীরিক পরিবর্তনের কারণে পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন করছেন। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে কাবির।
মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) সকাল থেকে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে তাকে দেখতে কামরাঙ্গীরচালা এলাকার বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ।
কামরাঙ্গীরচালা এলাকার কাউয়ুম দেওয়ানের সন্তান কেয়া স্থানীয় ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি জন্মনিবন্ধনের তথ্য সংশোধন করে তার নাম ‘কাবির’ করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সাল থেকে কেয়ার শরীরে ধীরে ধীরে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। বিষয়টি নিয়ে তারা চিকিৎসকদের পরামর্শ নেন এবং বিভিন্ন পরীক্ষা করান। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে হরমোনজনিত পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলা হয়। পরবর্তী সময়ে শারীরিক পরিবর্তন আরও স্পষ্ট হলে কেয়া পুরুষ পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেন। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরকারি নথিও সংশোধন করা হয়।
কাবিরের মা কনিকা ইসলাম জানান, বিয়ের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আলোচনা করলে কেয়া তাতে আগ্রহ দেখাতেন না। একপর্যায়ে তিনি নিজের শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি পরিবারের কাছে জানান। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া হয় এবং পরীক্ষার পর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।
কাবির বলেন, ২০২৫ সাল থেকে তিনি নিজের শরীরে পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করেন। এসএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিষয়টি পরিবারকে বিস্তারিত জানান। আগে নিয়মিত মাসিক হলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায় এবং শরীরে অন্যান্য পরিবর্তন দেখা দেয়। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হিসেবে তিনি বিষয়টিকে বোঝার ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করার চেষ্টা করছেন বলেও জানান।
ধানসিঁড়ি পাবলিক স্কুলের পরিচালক নুরুল ইসলাম বলেন, কেয়া বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। স্কুলে তাকে মেয়ে পরিচয়েই সবাই চিনতেন। পরে পরিবারের কাছ থেকে শারীরিক পরিবর্তনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন তারা।
এদিকে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর বাড়িটিতে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয়দের কেউ ঘটনাটি নিয়ে কৌতূহল প্রকাশ করলেও অনেকে বিষয়টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখার এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর পরামর্শ দিয়েছেন।
এমএ//