ঋত্বিক ঘটক বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য ও কিংবদন্তিতুল্য নাম। তিনি শুধু একজন চলচ্চিত্র নির্মাতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন নাট্যকার, গল্পকার, শিক্ষক এবং সমাজসচেতন শিল্পী। এবার এই নির্মাতার কালজয়ী সৃষ্টিগুলো আরও ঝকঝকে ও প্রাণবন্ত রূপে পর্দায় ফিরছে। সময়ের ধুলো ঝেড়ে এই মহান নির্মাতার আটটি বিখ্যাত সিনেমাকে আধুনিক ‘প্রিসটিন-৪কে’ রেজলিউশনে রূপান্তরিত ও সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় রয়েছে ঋত্বিক ঘটকের অবিস্মরণীয় সব সৃষ্টি-‘নাগরিক’, ‘অযান্ত্রিক’, ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, ‘সুবর্ণরেখা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’। আর এই কালজয়ী সিনেমাগুলো নিয়ে জুন মাসজুড়ে লন্ডনে বসছে বিশেষ প্রদর্শনীর আসর।
১৯২৫ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশে) জন্মগ্রহণ করেন ঋত্বিক ঘটক। তার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের সাথে যৌথভাবে এই রেট্রোস্পেকটিভ-এর আয়োজন করেছে ব্রিটিশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট । ‘রেভলিউশনারি সিনেমা, দ্য প্যাশন অব ঋত্বিক ঘটক’ নামক এই উৎসবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্তরের দর্শক নতুন করে ঋত্বিকের সিনেম্যাটিক জার্নি উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।
ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল ফিল্ম হেরিটেজ মিশন প্রকল্পের মাধ্যমে ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্রগুলো সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের কাজ করা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ উদ্যোগে দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ চলেছে।
চলচ্চিত্রগুলোর মূল সৌন্দর্য ও শিল্পগুণ অক্ষত রেখে কালার গ্রেডিং প্রক্রিয়ার তদারকি করেছেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিত্রগ্রাহক অভীক মুখার্জি।
এই প্রকল্পে যুক্ত হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ঋত্বিক ঘটকের চলচ্চিত্র পুনরুদ্ধারের কাজে অংশ নেওয়া তার জন্য গর্বের বিষয়। তার মতে, ঋত্বিক ঘটক ভারত ও বিশ্বের অন্যতম সৃজনশীল ও মৌলিক চলচ্চিত্র নির্মাতা। এই কাজের মাধ্যমে তিনি ঘটকের চলচ্চিত্রগুলো আরও গভীরভাবে দেখার ও বোঝার সুযোগ পেয়েছেন।
পিডি