রাজনীতি

অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হতো, এখনও হচ্ছে : সারজিস

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, অভ্যুত্থানের আগে বাংলাদেশে চাঁদাবাজি হতো। এখনও হচ্ছে। যেগুলোর কারণে একটা অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই কাজগুলো যদি বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে আবারও হয়, তাহলে আমরা আগামী দিনে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে শঙ্কিত। আমরা বিশ্বাস করি, এই রাজনীতি করে আগামীর বাংলাদেশে কেউ আর টিকে থাকতে পারবে না।

 শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন দলের প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী এনসিপিতে যোগদান উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিয়েছে বেগম খালেদা জিয়া ও মেজর জিয়াকে দেখে। তারেক রহমান তাঁর যোগ্য পিতা-মাতার উত্তরসূরি হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে একটা সুযোগ পেয়েছেন। তাঁকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তিনি এই সুযোগটা কাজে লাগাবেন কি না।

তিনি অভিযোগ করেন, কিন্তু আমরা যখন দেখি আওয়ামী লীগের সময়ে যেভাবে মিডিয়া দখল করা হতো, তাঁর সময়ে একই কায়দায় মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে কোনো ধরনের অভিজ্ঞতা ছাড়াই দলীয় নেতাকর্মী দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তখন আমরা আগের যে বাংলাদেশ ছিল- সেই বাংলাদেশের লক্ষণ আমরা আবারও দেখতে পাই।

 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বলে, আমরা শুধু নাকি বিরোধীতা করার জন্য বলি। কিন্তু আমরা কি আর সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চাই? অন্য কোনো দেশের দাদাদিরি দেখতে চাই? যারা এই কাজগুলো ক্ষমতায় আসতে না আসতেই শুরু করেছে, তাদের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ হতে পারে না।

এ এনসিপি নেতা বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে ফিফটি পার্সেন্ট মানুষ ভোট দিয়েছে। তার মানে এখনও অর্ধেক মানুষ আছে যারা বিএনপিকে ভোট দেয়নি। যারা বিএনপিকে ভোট দিয়েছে তারা তিনমাস যেতে না যেতেই হাজার হাজার লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ এখনই বিএনপির ওপর হতাশ হয়ে গেছে। তারা মনে করছে বিএনপি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিএনপির প্রতারণা মনে রেখে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হবে।

এর আগে অনুষ্ঠানে বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আসা প্রায় ৫০০ জন নেতাকর্মীকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় মঞ্চ থেকে নবাগতদের আগের রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংগঠনিক পদ ঘোষণা করা হয়।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সারজিস