দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬ লাখ গবাদিপশু

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

ঈদুল আজহা সামনে রেখে সিরাজগঞ্জ কোরবানির জন্য প্রস্তুত প্রায় ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশুএর মধ্যে প্রায় ২ লাখ ষাঁড় রয়েছে। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য বাজারমূল্য ধরা হচ্ছে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। ভারতীয় গরু দেশে না ঢুকলে ভালো দামের প্রত্যাশা করছেন খামারিরা।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, জেলার প্রায় ১৭ হাজার খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। খামারিরা বলছেন, কৃত্রিম উপায়ে নয়, প্রাকৃতিক খাদ্য ব্যবহার করেই তারা পশু মোটাতাজা করছেন। ধানের খড়, ঘাস, ভুসি, খৈল ও বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্য নিয়মিত খাওয়ানো হচ্ছে গবাদিপশুকে।

সিরাজগঞ্জের পশু শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিবছরের মতো এবারও জেলার বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলের হাটে এসব গরু বিক্রির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা খামারে এসে পশু দেখে যাচ্ছেন।

সিরাজগঞ্জে গবাদিপশু খামারের প্রসার বহুদিনের। বিশেষ করে শাহজাদপুরে মিল্কভিটার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ অঞ্চলে খামারভিত্তিক পশুপালন দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গরুও পালন করছেন খামারিরা।

এবারের মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে উৎপাদন ব্যয়ে। গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের খরচও অনেক বেড়েছে। সরিষার খৈল, গমের ভুসি, ডাবরি ভুসি থেকে শুরু করে কাঁচা ঘাসসবকিছুর দাম আগের চেয়ে বেশি। এতে লাভ নিয়ে কিছুটা শঙ্কায় রয়েছেন অনেক খামারি।

শাহজাদপুর উপজেলার স্বপ্ন ডেইরি ফার্ম”-এর পরিচালক রায়হান আজাদ জানান, কয়েক মাস আগে ৪৪টি গরু কিনে মোটাতাজাকরণ শুরু করেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের নিয়েই প্রতিদিন গরুর পরিচর্যা করছেন। তার আশা, ঈদের বাজারে ভালো দাম পেলে বাড়তি খরচ কাটিয়ে লাভ করা সম্ভব হবে।

খান এগ্রো”-এর পরিচালক নির্ঝর খান বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার গো-খাদ্যের দাম অনেক বেড়েছে। ফলে একটি ষাঁড় মোটাতাজা করতে আগের চেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হচ্ছে। তিনি বলেন, ভারতীয় গরুর অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করা গেলে দেশীয় খামারিরা ভালো দাম পাবেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আনোয়ারুল হক বলেন, এ বছর জেলার চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তাই দেশের বিভিন্ন জেলার কোরবানির হাটেও সিরাজগঞ্জের পশু সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সিরাজগঞ্জ