আন্তর্জাতিক

কারাগার থেকে ফের গৃহবন্দি অং সান সু চি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মিয়ানমারের সাবেক রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা অং সান সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে আবারও গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম।

শুক্রবার (১ মে) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আটক হওয়া এই নোবেলজয়ী নেত্রী এতদিন রাজধানী নেপিডোর একটি সামরিক কারাগারে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল।

সামরিক শাসক মিন অং হ্লাইং এক বিবৃতিতে জানান, সু চির অবশিষ্ট সাজা এখন নির্ধারিত বাসভবনে কাটানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে গণতান্ত্রিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় ক্ষমতায় আসেন অং সান সু চি। তবে এর আগে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় গৃহবন্দি ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে পরিচিতি পান।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক ছবিতে সু চিকে দুই সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা গেলেও তার পরিবার এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। সু চির ছেলে কিম অ্যারিস দাবি করেন, ছবিটি পুরোনো।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এখনও এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাইনি, যা নিশ্চিত করে যে তাকে সত্যিই গৃহবন্দি করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, কয়েক বছর ধরে মায়ের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ হয়নি এবং স্বাধীনভাবে তার অবস্থান যাচাই না হওয়া পর্যন্ত তিনি সরকারি বক্তব্যে আস্থা রাখতে পারছেন না।

অন্যদিকে, সু চির আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, গৃহবন্দি করার বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নোটিশ পাননি।

২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে অং সান সু চিকে খুব কমই জনসমক্ষে দেখা গেছে। সর্বশেষ ২০২১ সালে আদালতে হাজিরার সময় তার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়, যেগুলোকে আন্তর্জাতিক মহলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসেবে দেখা হয়েছে।

প্রথমদিকে তাকে ৩৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও পরে কয়েক দফায় সেই সাজা কমানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সু চিকে আবার সামনে আনা এবং গৃহবন্দি করার ঘোষণা হয়তো আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর কৌশল কিংবা ভবিষ্যতে তার আংশিক মুক্তির ইঙ্গিত হতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটাতে চেষ্টা করছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। পর্যবেক্ষকদের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কিছু সাফল্যের পর জান্তা সরকার নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত মনে করছে।

অং সান সু চির সাবেক উপদেষ্টা শন টার্নেল জানান, সামরিক সরকার নিজেদের বৈধ হিসেবে তুলে ধরতে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং এই পদক্ষেপ সেই কৌশলের অংশ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সু চিকে যেখানে রাখা হয়েছিল সেখানে বন্দিদের জীবনযাত্রার মান ছিল অত্যন্ত খারাপ। খাবার, চিকিৎসা ও আবাসন—সব ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি ছিল মানবেতর।

১৯৯১ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়া অং সান সু চি একসময় আন্তর্জাতিকভাবে গণতন্ত্রের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তবে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা সংকটে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অবস্থান সমর্থন করায় বিশ্বজুড়ে তার ভাবমূর্তি বড় ধাক্কা খায়।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #মিয়ানমার #অং সান সু চি