দীর্ঘ ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাত থামিয়ে অবশেষে সমঝোতার পথে হাঁটল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে গত ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলা তীব্র আকার ধারণ করেছে।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় তৈরি হওয়া এই সমঝোতা স্মারকটি আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, হরমুজ প্রণালীতে থাকা কার্যত অবরোধ তুলে নিয়ে তা সব ধরনের জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, তাদের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতের সূচনা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারির পর, যখন পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে রূপ নেয়।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিবালয় জানিয়েছে, চুক্তিতে সব রণাঙ্গনে অবিলম্বে সামরিক সংঘাত স্থগিত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়, “সমঝোতা অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ ও সামরিক অভিযান আজ রাত থেকেই স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হবে।”
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাধ্যবাধকতা পূরণের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং সে পর্যন্ত আলোচনাও স্থগিত থাকবে।
চুক্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখার জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান, ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান এবং কাতার সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে জানায়, আপনাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
চুক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন, ‘এই চুক্তি সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বয়ে আনবে। ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সাথে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে। সবাইকে অভিনন্দন! আমি এতদ্বারা হরমুজ প্রণালী টোলমুক্তভাবে খুলে দেওয়ার পূর্ণ অনুমোদন দিচ্ছি এবং একই সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অবিলম্বে তুলে নেওয়ারও অনুমোদন দিচ্ছি। বিশ্বের জাহাজসমূহ, তোমাদের ইঞ্জিন চালু করো। তেলের প্রবাহ শুরু হোক!’
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তার মতে, ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগ এই অঞ্চলে বাস্তব পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করেছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি একটি নতুন যুগের শুরু হতে পারে, যেখানে ইরানসহ পুরো অঞ্চল নতুনভাবে এগিয়ে যাবে।”
সূত্র: আল জাজিরা
এসি//