নেত্রকোণায় পাসপোর্ট করতে এসে মো. করিম (৪১) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (০৯জুন) সকালে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার রোহিঙ্গা যুবককে আটক এর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১০টায় পৌর শহরের বড়বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে সৌদি আরবের একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স ও চট্টগ্রাম থেকে নেত্রকোণায় আসার একটি বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, গেল শনিবার চট্টগ্রাম থেকে ‘সোনার তরী’ পরিবহনের একটি বাসে নেত্রকোণায় আসেন করিম। তিনি শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন। দালাল চক্রের মাধ্যমে ভুয়া পরিবার ও ঠিকানা ব্যবহার করে বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন এবং পাসপোর্ট তৈরির উদ্দেশ্যে তিনি নেত্রকোণায় এসেছিলেন।
পরবর্তীতে ওই পাসপোর্ট ব্যবহার করে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তার। তবে সংশ্লিষ্ট দালাল চক্রের নাম-ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি। সোমবার রাতে বড়বাজার এলাকায় তার চলাফেরা ও কথাবার্তা গোয়েন্দা সংস্থার নজরে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে পুলিশ কে জানালে তারা এসে করিমকে আটক করে।
মো. করিম জানান, তার নিজের কোনো বৈধ পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট নেই। তার মা রোকেয়া সৌদি আরবে মারা গেছেন। বাবার নাম রফি। মা চট্টগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার কাছে খালাদের নাম বা আত্মীয়-স্বজনদের সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য নেই। পরিবারকে খুঁজে বের করতে বাংলাদেশে এসেছেন। নেত্রকোণায় আত্মীয়-স্বজনদের সন্ধান করতে এসেছেন। তার সঙ্গে আর কেউ নেই। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চকরিয়া ও বিভিন্ন এলাকায় খুঁজেছেন। পরিবারের ঠিকানা বা পরিচয় খুঁজে বের করতে পারলে জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং পরবর্তীতে পাসপোর্ট করতে পারবেন। তার কাছে কোনো দেশের পাসপোর্ট নেই। সৌদি আরবে বার্মিজ (মিয়ানমারের নাগরিক) হিসেবে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল তাকে।
নেত্রকোণা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা করিম মিয়াকে পুলিশ শহরের বড় বাজার থেকে আটক করেছে। দেশের যেকোনো একটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তাকে পাঠানো হবে।
পি/ডি