লেবানন ও ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরাইলের সামরিক প্রধান আইয়াল জামির। বুধবার (১৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আইয়াল জামির বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের ওপর শক্ত আঘাত হানা হয়েছে, যার ফলে দেশটির প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে পারমাণবিক ইস্যু, হরমুজ প্রণালি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইরানকে কোনো ধরনের কৌশলগত সুবিধা নিতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইয়াল জামির আরও বলেন, প্রয়োজনে দ্রুত ও শক্তিশালী হামলা চালানোর সক্ষমতা ইসরাইলের রয়েছে।
লেবানন প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলের সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখলে নেওয়া হচ্ছে এবং উত্তরাঞ্চলের বসতিগুলোর জন্য সম্ভাব্য হুমকি দূর করার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর এক জ্যেষ্ঠ সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, ইরানের চাপের ফলে লেবাননে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
সূত্রটি জানায়, ইসলামাবাদে চলমান আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলোর সঙ্গে ইরানও চায়, বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চাপের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে। এই প্রভাব ব্যবহার করে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে চাপ দিতে পারে ইরান।
প্রসঙ্গত, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসী হামলা চালায় ইসরাইল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে যোগ দেয়। যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
পরবর্তীতে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলে হামলা করে হিজবুল্লাহ। জবাবে ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধ্বংসাত্মক আগ্রাসী হামলা শুরু করে ইসরাইল।
বুধবার সকালে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তেহরানও রাজি হয়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও লেবানন সেই চুক্তির আওতার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
এমএ//