ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করেছে ইতালি। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় ইসরাইলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তির নবায়ন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভেরোনা শহরে এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সরকার আপাতত ইসরাইলের সঙ্গে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা চুক্তির স্বয়ংক্রিয় নবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখছে। চুক্তিটির আওতায় প্রযুক্তি গবেষণা, সামরিক সরঞ্জাম বিনিময়, প্রশিক্ষণ ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০০৬ সালে চালু হওয়া এই চুক্তি প্রতি পাঁচ বছর পরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হতো। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বিশেষ করে লেবাননে ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রম নিয়ে ইতালির আপত্তির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘোষণার পরপরই ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি লেবাননে ইতালীয় শান্তিরক্ষীদের একটি বহরের কাছে ইসরাইলি বাহিনীর গুলির অভিযোগ ওঠে, যা দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় ইতালি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
এদিকে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি লেবাননের বেসামরিক জনগণের ওপর হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে সমালোচনা করেছেন। পরবর্তীতে তিনি বৈরুতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি-এর সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রসঙ্গত, গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসী হামলা চালায় ইসরাইল। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও এই অভিযানে যোগ দেয়। যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এই আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান।
পরবর্তীতে ইরানকে সমর্থন জানিয়ে ইসরাইলে হামলা করে হিজবুল্লাহ। জবাবে ২ মার্চ থেকে লেবাননে ধ্বংসাত্মক আগ্রাসী হামলা শুরু করে ইসরাইল।
গেল ০৮ এপ্রিল সকালে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তেহরানও রাজি হয়। তবে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা থাকলেও লেবানন সেই চুক্তির আওতার বাইরে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইল।
এমএ//