আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সমুদ্রবন্দরগুলো অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যা সোমবার থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বেড়ে গেছে তেলের দাম। 

মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, সপ্তাহের প্রথম লেনদেনেই যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলারের বেশি হয়েছে। একইভাবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও ৭ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে ১০২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাই এই দামের উল্লম্ফনের প্রধান কারণ। কয়েক মাস ধরেই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি বাজার অস্থির। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার আগে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। পরবর্তীতে সংঘাত তীব্র হলে তা বেড়ে একপর্যায়ে ১১৯ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়। যদিও ইসলামাবাদে যুদ্ধবিরতি আলোচনার খবরে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছিল এবং দাম কমে ৯৫ ডলারের আশেপাশে নেমে আসে, কিন্তু নতুন করে অবরোধ ঘোষণার পর সেই স্থিতি আবার ভেঙে পড়েছে।

অন্যদিকে, শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ।

তিনি জানিয়েছেন, ইরান যেন তেল রপ্তানি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অন্যান্য দেশও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

পরিস্থিতির আরও জটিলতা বাড়িয়েছে ইরানের কৌশলগত অবস্থান। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজ থেকে বড় অঙ্কের টোল আদায় করছে তেহরান।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে দেশটি, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ‘চূড়ান্ত ও কঠোর’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। ইতোমধ্যেই দেশটিতে প্রতি গ্যালন জ্বালানির গড় মূল্য ৪ ডলারের বেশি, যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #যুক্তরাষ্ট্র #তেলের দাম