পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টায় আয়োজিত এই জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মাওলানা মুফতি মো. আবদুল মালেক।
জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়াও জাতীয় সংসদের স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা জামাতে শরিক হন।
নামাজ শেষে দেশ-জাতির কল্যাণ, সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও বিশ্বের স্থিতিশীলতার জন্য দোয়া করা হয়। বিশেষভাবে ফিলিস্তিন ও ইরানের নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য মোনাজাতে দোয়া করা হয়। এছাড়া দেশে ও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে হামের ভাইরাসে আক্রান্ত ও নিহতদের জন্যও প্রার্থনা করা হয়। মোনাজাতে মুসল্লিদের গুনাহ মাফ এবং মৃতদের কবরের আজাব মাফের আবেদন জানানো হয়।
এর আগে খুতবায় মাওলানা আবদুল মালেক মুসল্লিদের উদ্দেশে ‘মনের পশুকে কোরবানি’ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি দেশ ও জাতির অগ্রগতি, সমৃদ্ধি এবং নৈতিক উন্নতির জন্য দোয়া করেন।
এবার জাতীয় ঈদগাহে মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। এর মধ্যে সাধারণ মুসল্লিদের জন্য প্রায় ৩১ হাজার পুরুষ ও সাড়ে ৩ হাজার নারীর জায়গা নির্ধারণ করা হয়। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।
অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য পৃথক কাতারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে প্রায় ২৫০ জন পুরুষ ও ৮০ জন নারী নামাজ আদায় করতে পারেন।
ঈদগাহের বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণে ব্যবহার করা হয়েছে ৪৩ হাজারের বেশি বাঁশ এবং কাঠামো শক্ত রাখতে ১৫ টনেরও বেশি রশি। বৃষ্টি থেকে সুরক্ষার জন্য টাঙানো হয়েছে এক হাজার ৯০০টি উন্নতমানের ত্রিপল। পুরো মাঠ আলোকিত রাখতে বসানো হয়েছে ৯০০টি টিউবলাইট।
গরমের কথা বিবেচনায় প্যান্ডেলের ভেতরে এক হাজার ১০০টির বেশি ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি ভিআইপি অংশে রাখা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। পুরো ঈদগাহ মাঠ কার্পেট দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়।
মুসল্লিদের প্রবেশ ও বের হওয়ার সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে মোট চারটি প্রবেশপথ রাখা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জন্য। নামাজ শেষে নির্বিঘ্নে বের হওয়ার জন্য সাতটি বহির্গমন পথ নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে সাধারণ পুরুষদের জন্য পাঁচটি, নারীদের জন্য একটি এবং ভিআইপিদের জন্য একটি আলাদা পথ রাখা হয়।
এসি//