চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মা ও ছেলের পর এবার মারা গেলেন চাচাও। এ নিয়ে একই ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়াল ৩ জন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হালিশহরের ওই বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা দগ্ধ হন। গুরুতর আহত ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার রাতেই ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আনার পথে সোমবার রাতে মারা যান ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৭টার দিকে মারা যান তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন। আর মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয় বলে জানান বার্ন ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।
শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন সামির। সামির শাওনের চাচা। দগ্ধদের মধ্যে ছয়জন এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। তারপর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন। সেহেরি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত রানী, শাওন, সামির ছাড়া দগ্ধ অন্যরা হলেন- রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।
চিকিৎসাধীন পাখি ও সাখাওয়াতের ত্বকে পোড়ার মাত্রা শতভাগ। এছাড়া শিপনের ৮০, আয়েশার ৪৫, আইমানের ৩৮ ও আনাছের ৩০ শতাংশ পুড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এসি//