ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্র মিকদের আন্দোলন ঘিরে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করেছে জেলা প্রশাসন। এ জন্য বিজিবির মোতায়েন করা প্লাটুনের সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ১১ করা হয়েছে। পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা ২১ থেকে বাড়িয়ে ২৫ জন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকাল থেকে ২৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি ও পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া ও রিসার্চ সেল) মো. আরিফ হোসাইন জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিজিবি টহল দিচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মঙ্গলবার জেলার বিভিন্ন এলাকার ৫০টি তৈরি পোশাক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গাজীপুর শহরের নাওজোর এলাকায় দিগন্ত সোয়েটার কারখানার সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় সড়কের পাশের ময়লা-আবর্জনা মহাসড়কে ফেলে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এতে জয়দেবপুর চৌরাস্তা থেকে নাওজোর মোড় পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের মতো ছোট যানবাহনও চলাচল করতে দেওয়া হয়নি। এ সময় কয়েকজন শ্রমিককে মহাসড়কের ওপর ক্রিকেট খেলতে দেখা যায়। বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিকদের ছবি তুলতে ও ভিডিও ধারণ করতেও বাধা দেন।
ভোগড়া, পল্লী বিদ্যুৎ ও চন্দ্রা এলাকার কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরাও মহাসড়কে নামার চেষ্টা করেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
সকাল ৮টার দিকে কালিয়াকৈরের মৌচাক এলাকায়ও কয়েকজন শ্রমিক মহাসড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। সেখানে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন জানান, সকালে বিভিন্ন এলাকার আট থেকে ১০টি কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে প্রবেশ করেছিলেন। তবে কাজ শুরু না করেই তারা কারখানা থেকে বেরিয়ে যান। পরে ওই কারখানাগুলোতে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এমএ//