রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) পুরানো গবেষণার মাঠ (পুরানো বাণিজ্য মেলার মাঠ) ফেরতের দাবি এবং সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলন ও পরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা জানান, বাণিজ্য মেলার মাঠ, যাকে সবাই পুরাতন গবেষণার মাঠ নামেও চিনে, একসময় শেকৃবির জমি ছিল৷ ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকার লিখিত চিঠি দিয়ে এই জমি অধিগ্রহণ করে। ৫-১০ বছরের মধ্যে এই মেলা অন্য কোথাও স্থাণান্তরিত হবে এই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। কিন্তু সেই মাঠ বিগত প্রায় ৪০ বছরেও আর পায়নি শেকৃবি। জুলাই আন্দোলনের পরে সেই মাঠ অধিগ্রহণের কার্যক্রম চলছিল।
তবে কিছুদিন আগে সচিবালয় স্থাণান্তরের বিষয়টি নিয়ে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শেকৃবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারীসহ এলামনাই শিক্ষার্থীরা। যার ফলশ্রুতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা আজ রাস্তায় নেমেছে।
গবেষণা মাঠ পুনরুদ্ধার স্টিয়ারিং কমিটির আহবায়ক প্রফেসর এম. সালাহউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, সচিবালয় স্থাণান্তরিত হলে ঢাকার পরিবেশই বদলে যাবে। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ হাজার গাড়ি যদি এদিকে চলে, তাহলে সেই গাড়ির প্রভাব সমস্ত পরিবেশের ওপরই পড়বে। তখন শেকৃবি আর শান্ত ক্যাম্পাস পাবে না। পূর্ব থেকেই যেভাবে সবুজাভ জাতীয় সংসদ, জিয়া উদ্যান ও শেকৃবি রয়েছে, সেখানে সচিবালয় হলে শুধু শেকৃবিই নয়, জিয়া উদ্যান, জিয়ার মাজারের যে নির্মলতা তা বিনষ্ট হবে।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, জনমত ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতামত উপেক্ষা করে সরকার এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলে তা জনগণ, ঢাকাবাসী ও ছাত্রজনতা মেনে নেবেন না। যদি সেটি করতে হয়, ছাত্রদের রক্তের উপর দিয়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা অবশ্যই জানি, সরকার এ রকম একটি বিষয়ে অবিবেচক সিদ্ধান্ত নেবে না।”
মানবন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল।
আই/এ