রাজনীতি

সাহস থাকলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি তদন্ত করুন : নাহিদ ইসলাম

দুদক পুনর্গঠন করে এনসিপি ও বিরোধীদলকে টার্গেট করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি আরও বলেন, যদি সাহস থাকে তাহলে ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দুর্নীতি ও অভিযোগগুলো আপনারা তদন্ত করুন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এনসিপি আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন। 

বিএনপি সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনমূলক আইন পাস, বিরোধী মত দমন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে’ এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা যে গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম, যে লড়াই করেছিলাম দেশের মৌলিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য, সেই গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার, মানবাধিকার এখনো এই দেশে নিশ্চিত হয়নি।

মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আজকে আমরা আপনাদের সামনে বলতে চাই, মিরাজ শেখ কোথায়? পাঁচ মাস হয়ে গেলো, কেন মিরাজ শেখের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না? অথচ এই সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, সরকারের বিগত সাত মাসে নাকি একটিও গুম হয়নি। মিরাজ শেখের গুমের ঘটনা পুরো বিশ্ববাসী এখন জানে।

মিরাজ শেখের পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম জানান, তারা প্রথমে থানায় গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নেওয়া হলেও সেখানে কোস্টগার্ডের নাম লিখতে দেওয়া হয়নি।

গাজী সালাহউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়ারও সমালোচনা করেন এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তিনি (গাজী সালাহউদ্দিন) একটা ভুল করেছিলেন। খারাপ ভাষা ব্যবহার করে সরকার প্রধানের নামে কটূক্তি করেছিলেন। আমরা সেটা সমর্থন করিনি। দল হিসেবে আমরা তৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। গাজী সালাহউদ্দিন তানভীর কোন সন্ত্রাস করেছেন যে তাকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে?

গাজীপুরের সিফাতের বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গালি দেওয়া কি এক ধরনের সন্ত্রাস? তারেক রহমান কি বাংলাদেশের নতুন দিগ্বিজয়ী? তার বিরুদ্ধে কথা বললেই, মিম করলেই, এমনকি গালি দিলেও, যেটা আমরা সমর্থন করি না, সেটা তো সন্ত্রাস নয়।

হবিগঞ্জে ছাত্রশক্তির কর্মী আলিফের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, হবিগঞ্জে দেখেছেন, আমাদের ছাত্রশক্তির কিশোর আলিফের চোখ তারা কেড়ে নিয়েছে। বিরোধী দল-মত দমন করা শুরু হয়ে গেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত যদি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই করা হয়, তাহলে একটি বাহিনীর বিরুদ্ধে অন্য একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করবে। পাশাপাশি অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীকে শাস্তির বিধান রাখার ফলে মানুষ অভিযোগ করতে ভয় পাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকার তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই সরকার তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ দিতে ব্যর্থ হয়েছে, সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়েছে, এখন মানবাধিকার হরণ করে নিচ্ছে এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেনি।

মানববন্ধন থেকে গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে মতপ্রকাশের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান নাহিদ ইসলাম।

 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #এনসিপি #নাহিদ ইসলাম #দুদক #বিএনপি