রাজনীতি

একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা সঠিক ছিল না, তারা মেনে নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় সংসদে 'না' ভোট না দিয়ে জামায়াতে ইসলামী পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালের নিজেদের বিতর্কিত ভূমিকা মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ শীর্ষক বইয়ের উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২২ এ মুক্তিযোদ্ধাদের একটা সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেই সংজ্ঞার মধ্যে ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলামী যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের বিরোধিতা করেছিল, সেই কথাটি ইনকর্পোরেট করা আছে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সেখানে বলা হলো যে, ‘মুক্তিযোদ্ধা কারা?’ সংজ্ঞায় বলছে, যারা ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, রাজাকার, আল বদর, জামায়াতে ইসলামী, মুসলিম লীগ ও নেজামে ইসলামী পার্টির বিরোধিতা করেছেন, সংগ্রাম করেছেন দেশ স্বাধীনের জন্য তারাই হলেন মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি বলেন, জামায়াতের দাবি ছিল তাদের নামটা ওখান থেকে বাদ দিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা বললাম, ঐতিহাসিক সত্যটাকে আমরা তো অস্বীকার করতে পারি না। আলোচনার এক পর্যায়ে এসে ওখানে শুধু লেখা হলো ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’, ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’।

তিনি আরও বলেন, পরে পার্লামেন্টে এই আইনটা প্লেস হলো। আপনারা জানেন যে পার্লামেন্টে আইন পাশ করতে গেলে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট দেওয়া যায়। জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য এতে ‘না’ ভোট দেননি। এটা রেকর্ডেড, জামায়াত ‘না’ ভোট দেয়নি।

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, জামায়াতের শীর্ষ ও প্রভাবশালী আইনজীবীদের এই আলোচনায় উপস্থিত থাকা উচিত ছিল। ভিন্নমত থাকলেও আলোচনায় অংশ না নেওয়াটা তাদের রাজনৈতিক দীনতা ও সংকীর্ণতা। বইটিতে বিএনপি সম্পর্কেও সমালোচনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুস্থ সমাজ ব্যবস্থার জন্য গঠনমূলক সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা থাকতে হার/

উল্লেখ্য, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২০১৬ সালে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য দলটিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সেদিন রাজ্জাকের সেই পরামর্শ ও দূরদর্শী অবস্থান গ্রহণ করলে জামায়াতের বহু রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকটের সহজ সমাধান হয়ে যেত।

 

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল #জামায়াতে ইসলামী #আইনমন্ত্রী