জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার সহপাঠীর বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঞা এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় প্রতিদিনের মতো স্কুলের উদ্দেশ্যে রওনা হয় প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম। ঘণ্টাখানেক পর তার মা স্কুলে গিয়ে জানতে পারেন সন্তান শ্রেণিকক্ষে পৌঁছায়নি। আশপাশের পুকুর ও নালায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো হদিস না মেলায় সেদিনই মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে পরিবার।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত জামিলুল ইসলামের মেয়ের সাথে একই স্কুলে পড়ত মরিয়ম। সেই সুবাদে প্রায়ই একসাথে স্কুলে যেত তারা। ঘটনার দিন সকালে জামিলুলের স্ত্রী বোনের বাড়িতে থাকায় ঘর ফাঁকা ছিল। মরিয়ম তাদের ঘরে গেলে জামিলুল তাকে ধর্ষণ করার পর ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে নিজের বসতঘরের মাটি খুঁড়ে লাশ চাপা দিয়ে রাখে জামিলুল।
গোপন খবরের ভিত্তিতে শনিবার রাতে জামিলুলের বসতবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। ঘরের মেঝে খুঁড়ে নিখোঁজ মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় জামিলুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে আটক করে পুলিশ। পরদিন রোববার মাদারগঞ্জ মডেল থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়। আটক আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হলে প্রধান অভিযুক্ত জামিলুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্বজনরা ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক ও দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির মামা বলেন, এটা মেনে নেওয়ার মতো না। কী মেনে নেব বলেন? আল্লাহ গো, এর বিচার কি হইব? এর বিচার সর্বোচ্চ কী করবেন আপনারা? ফাঁসির রায় দেবেন সর্বোচ্চ? কিন্তু ফাঁসি আপনারা দেবেন না। কিছুদিন আগে আরেকটা ঘটনা ঘটছে। দুইটা ফাঁসি, দুইটা খুনের আসামি, খালি রায় হইছে—কোনো ফাঁসি এখনো কার্যকর হয় নাই।
আর/আই