দেশজুড়ে

কিশোরী হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গুলি করে হত্যা

পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার আটঘরিয়ায় কিশোরী তমা খাতুন (১৬)  হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও একদন্ত ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আদম আলী (৬০)কে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে একদন্ত ইউনিয়নের চণ্ডীপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, একদন্ত হাট থেকে বাজার করে মোটর সাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন আদম আলী। চণ্ডীপাশা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে স্থানীয় একটি বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে যান তিনি। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে আটঘরিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হক বলেন, আদম আলীকে কারা এবং কী কারণে হত্যা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।

তমা খাতুন হত্যা মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর উপজেলার ষাটগাছা গ্রামের নায়েব আলীর মেয়ে তমা খাতুনের মরদেহ স্থানীয় হাচেন আলীর বাঁশঝাড় থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। এ ঘটনায় পরদিন তমার বাবা নায়েব আলী বাদী হয়ে আটঘরিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আদম আলীকে প্রধান আসামি করা হয়।

মামলার পর আত্মগোপনে চলে যান আদম আলী। ২৮ ডিসেম্বর দুপুরে র‌্যাব-১২ পাবনা ও র‌্যাব-১৪ টাঙ্গাইলের যৌথ একটি দল টাঙ্গাইল সদর থানার আশেকপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়েছিল, জিজ্ঞাসাবাদে আদম আলী তমাকে ধর্ষণ এবং পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শ্বাসরোধ করে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন।

এ হত্যার নেপথ্যে তমা হত্যা মামলার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, কিংবা অন্য কোনো বিরোধ থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পাবনা