সেদিন ওয়াশিংটনের রাজনীতি উত্তাল, ক্যাপিটল ভবনের সামনে জড়ো হচ্ছেন ট্রাম্পের হাজারো সমর্থক। আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক বার্তা দিয়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাশে থাকার ঘোষণা দিচ্ছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাটালি হার্প। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার প্রকাশিত বার্তার সংখ্যা ছাড়ায় দেড়শ।
২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির সেই ঘটনাবহুল দিনের পুরোনো পোস্টগুলোই এখন আবার সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, সেদিন শুধু ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই নয়, ২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ নিয়েও প্রকাশ্যে তার অবস্থানকে সমর্থন করেছিলেন হার্প।
তখন হার্পের বয়স ছিল ২৯ বছর। তিনি ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্কের উপস্থাপক হিসেবে কাজ করছিলেন। নিজের পরিচয়ে তাকে ট্রাম্পের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করতে দেখা যায়।

৬ জানুয়ারিতে ট্রাম্পের পক্ষে একের পর এক বার্তা
সিএনএনের পর্যালোচনা অনুযায়ী, ৬ জানুয়ারি এক দিনেই ১৫০টির বেশি বার্তা প্রকাশ করেন হার্প। ট্রাম্পের সমর্থকদের ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে উল্লেখ করে রিপাবলিকানদের ট্রাম্পের পক্ষে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি।
ট্রাম্পের ভাষণ চলার সময়ও তার বক্তব্য অনুসরণ করে একাধিক বার্তা প্রকাশ করেন হার্প। একই দিনে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র রুডি জুলিয়ানির একটি বক্তব্যও প্রচার করেন তিনি। জুলিয়ানি তখন ‘যুদ্ধের মাধ্যমে বিচার’ করার কথা বলেছিলেন। পরে তার আইনজীবীরা দাবি করেন, বক্তব্যটি ছিল অতিরঞ্জিত এবং এর মাধ্যমে সহিংসতার আহ্বান জানানো হয়নি।
ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলা শুরু হওয়ার পরও থেমে থাকেননি হার্প। হামলাকারীদের ট্রাম্পের সমর্থক নয় বলে দাবি করেন তিনি। এমনকি হামলাকারীদের মধ্যে অ্যান্টিফার সদস্যরা ঢুকে পড়েছিল—এমন ভিত্তিহীন দাবিও প্রচার করেন। তবে পরে ট্রাম্পের দেওয়া হামলাকারীদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন তিনি।

নির্বাচনের ফল নিয়েও ট্রাম্পের পাশে
ক্যাপিটল ভবনে হামলার পর কংগ্রেসে ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করতে থাকেন হার্প।
নির্বাচনের ফল নিয়ে আপত্তি জানানো কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতার প্রশংসাও করেন তিনি। পরদিন ট্রাম্প নতুন প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করার পরও তার বক্তব্য প্রচার করেন হার্প। এর কিছুক্ষণ পর নিজের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের প্রতি ভালোবাসা ও আনুগত্যের কথাও জানান তিনি।
তবে ট্রাম্পের নির্বাচনে পরাজয় না মানার অবস্থানের প্রতি হার্পের সমর্থন ৬ জানুয়ারির আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর জো বাইডেনের জয়কে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ৬ জানুয়ারিকে সামনে রেখে ট্রাম্পের পক্ষে সমর্থকদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

দ্বিতীয় মেয়াদেও ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে হার্প
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন নাটালি হার্প। এতদিন অনেকটাই আড়ালে থাকা হার্পের নাম সম্প্রতি সামনে আসে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের একটি বক্তব্যের পর। ট্রাম্পকে আক্রমণ করে দেওয়া ওই বক্তব্যে হার্পের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
এরপর ট্রাম্পের প্রতি হার্পের আনুগত্য প্রকাশ করা পুরোনো কয়েকটি চিঠিও প্রকাশ্যে আসে। সিএনএনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের প্রতি তার প্রকাশ্য সমর্থনের ইতিহাস অন্তত ২০১৬ সাল থেকে। এমনকি ২০১৯ সালে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়ার সময়ও বাইবেলের উদ্ধৃতি ব্যবহার করে তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন হার্প।
হার্পের পুরোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তা এবং ট্রাম্পের প্রতি তার দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য সমর্থন নিয়ে মন্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল সিএনএন। তবে হার্প এবং হোয়াইট হাউস—দুই পক্ষের কেউই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
এসি//