আন্তর্জাতিক

মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাইলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’: কলকাতা হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস

পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসাগুলোতে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করে রাজ্য সরকারের জারি করা নির্দেশিকার বৈধতা নিয়ে করা জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়েছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া হলে ‘আকাশ ভেঙে পড়বে না’।

বুধবার (৫ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার রাজ্যের মাদ্রাসাগুলোতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশিকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের বেঞ্চ। মামলাকারীদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য।

শুনানির সময় ধর্মীয় পরিচয় ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার প্রসঙ্গ উঠে এলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অন্য ধর্মের কোনো উদ্ধৃতি বা কয়েকটি পঙ্‌ক্তি উচ্চারণ করলেই কি একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বদলে যাবে? আদালত বলেন, এতে আকাশ ভেঙে পড়বে না। আজ যদি আমাকে এমন কোনো উদ্ধৃতি বলতে বলা হয়, যা আমার ধর্মের নয়, তাহলে কি আমি সেই ধর্মের অনুসারী হয়ে যাব?

এ সময় খ্রিস্টান সম্প্রদায় পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদাহরণও তুলে ধরেন আদালত। আদালতের মতে, অনেক খ্রিস্টান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রার্থনায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠতে পারে, ভিন্ন ধর্মের শিক্ষার্থীদের কেন খ্রিস্টান ধর্মীয় বিষয়বস্তু গাইতে বা বলতে বলা হচ্ছে।

মামলাকারীদের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ জাতীয় সংগীত নয়, জাতীয় গান। তাই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করা যায় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় সংগীতের সাংবিধানিক মর্যাদা জাতীয় গানের তুলনায় ভিন্ন।

অন্যদিকে, রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ধীরজ কুমার ত্রিবেদী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আদালত রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চান, মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর না করায় কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না।

পরে আদালত প্রশ্ন করেন, নির্দেশিকা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার কারণে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না। জবাবে মামলাকারীদের আইনজীবী বলেন, এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ নির্দেশিকাটি কার্যকর করার সাহস দেখায়নি। তখন আদালত জানতে চান, এ পর্যন্ত কেউ এ কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কি না।

এ সময় রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল হলফনামার মাধ্যমে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আরও সময়ের আবেদন জানান।

তিনি আদালতকে বলেন, কেবল আশঙ্কার ভিত্তিতে কোনো নির্দেশিকার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া যায় না। পরে রাজ্য সরকারের প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত মামলার শুনানি মুলতবি করেন আদালত।

এদিকে ‘প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ নামে একটি বিল সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে। ‘বন্দে মাতরম বিল’ নামে পরিচিত এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় গানকে জাতীয় সংগীতের সমপর্যায়ের আইনি মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর আগে জাতীয় পতাকা, সংবিধান ও জাতীয় সংগীতের মর্যাদা রক্ষায় আইনগত সুরক্ষা থাকলেও জাতীয় গান সেই সুরক্ষার আওতায় ছিল না। নতুন বিলে জাতীয় গানের অবমাননা বা গাওয়ায় বাধা দেওয়াকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #পশ্চিমবঙ্গ #কলকাতা #মাদ্রাসা #বন্দে মাতরম