আন্তর্জাতিক

ইরানের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা’ চলছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টানা তৃতীয় দিন দুই দেশের মধ্যে কোনো হামলা-পাল্টা হামলা না হওয়ায় সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনাও দেখছেন তিনি।

সোমবার (২৭ জুলাই) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও আগের মতো সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

তবে ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা চলছে না।

ট্রাম্প বলেন, শুক্রবার তিনি ইরানে মার্কিন হামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তার দাবি, দুই দেশের মধ্যস্থতাকারীরা তাকে আলোচনার জন্য আরও একটি সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এরপর ইরানও হামলা বন্ধ রাখে।

এর আগে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নিয়মিত হামলা-পাল্টা হামলা চলছিল। এতে জুনে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ে। 

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত করা। 

এদিকে যুদ্ধ অবসানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৭ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে।

প্রায় পাঁচ মাসের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে আসছে—এমন খবরও নাকচ করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জামের উৎপাদনও অব্যাহত রয়েছে।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলিও জানান, ট্রাম্পের সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য মজুত রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও বেশি অস্ত্র দেশেই উৎপাদনের নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করার পর বর্তমান সংঘাতের সূত্রপাত হয়। জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।

এরপর জুনে দুই দেশ সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে সংঘাতের অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে।

তবে ১৩ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনী একটি ট্যাংকারে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে।

এর পাল্টা জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে হামলা চালায়। এসব হামলায় চার মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী মার্কিন হামলায় দেশটিতে দশকের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #ইরান #ট্রাম্প #যুক্তরাষ্ট্র