অদৃশ্য হলেও এর প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। প্রতিদিন খাবার, পানীয় এমনকি বাতাসের সঙ্গেও মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে অতি ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যাকে বলা হয় মাইক্রোপ্লাস্টিক। আধুনিক জীবনে এর সংস্পর্শ পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে সচেতন কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে শরীরে এর প্রবেশ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করলে তা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে। পাশাপাশি ডিএনএর ক্ষতি, প্রজনন সক্ষমতা হ্রাস এবং কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার মতো ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে পরিবেশবিদদের মতে, বর্তমান সময়ে মাইক্রোপ্লাস্টিক থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা সম্ভব নয়। কারণ, এটি শুধু খাবার বা পানীয়ের মাধ্যমে নয়, ত্বকের রন্ধ্র এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে। তবে দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনলে এ ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
পানি অবশ্যই ফিল্টার করুন
বিশেষজ্ঞরা জানান, নলকূপ বা অন্যান্য উৎসের পানিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি থাকতে পারে। তাই পানি পান করার আগে ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত। উন্নতমানের ফিল্টার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার একটি বড় অংশ ছেঁকে ফেলতে সক্ষম।
প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান
বাইরের প্যাকেটজাত বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গরম খাবার দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের পাত্রে থাকলে সেখান থেকে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই বাড়িতে প্রস্তুত খাবার খাওয়াই তুলনামূলক নিরাপদ।
কাচ বা ধাতব পাত্রে খাবার সংরক্ষণ করুন
খাবার সংরক্ষণের জন্য প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ বা ধাতব পাত্র ব্যবহার করা ভালো। এসব উপাদান খাবারের সঙ্গে ক্ষতিকর কণা মিশিয়ে দেয় না। বিপরীতে প্লাস্টিক গরম হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবারে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমান
প্লাস্টিকের গ্লাস, স্ট্র, চামচ, কাঁটাচামচ, ট্রে বা বিভিন্ন মোড়কজাত সামগ্রী থেকে তুলনামূলক বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক ছড়াতে পারে। তাই একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা উচিত।
পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ও প্রাকৃতিক তন্তুর পোশাক বেছে নিন
বাজারে যাওয়ার সময় প্লাস্টিকের ব্যাগের পরিবর্তে চট বা সুতির ব্যাগ ব্যবহার করা পরিবেশের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। একইভাবে পোশাক, তোয়ালে কিংবা বিছানার চাদরের ক্ষেত্রে সুতি, উল বা লিনেনের মতো প্রাকৃতিক তন্তুর কাপড় ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পলিয়েস্টারজাত কাপড়ের ব্যবহার কমানোও ভালো।
সামুদ্রিক মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন
গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রে জমে থাকা প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে অনেক সামুদ্রিক মাছ ও জলজ প্রাণীর শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশ করছে। এসব মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণের মাধ্যমে সেই প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরেও পৌঁছে যেতে পারে। তাই সামুদ্রিক খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে সচেতনতা জরুরি।
প্রসাধনী কেনার আগে উপাদানের তালিকা পড়ুন
দৈনন্দিন ব্যবহারের কিছু প্রসাধনী, স্ক্রাব কিংবা দাঁত মাজার পেস্টেও প্লাস্টিকজাত উপাদান থাকতে পারে। তাই এসব পণ্য কেনার আগে লেবেলে উপাদানের তালিকা দেখে নেওয়া উচিত। সেখানে পলিথিন, পলিপ্রোপিলিন বা এ ধরনের প্লাস্টিকজাত উপাদানের উল্লেখ থাকলে সেসব পণ্য এড়িয়ে চলাই ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক পুরোপুরি এড়ানো না গেলেও সচেতন জীবনযাপন, নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।
এসি//