ভারতের নতুন প্রজন্মকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত ছিল—তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশি সময় কাটায়, কিন্তু বাস্তব কোনো ইস্যুতে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে না। তবে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ব্যানারে জেন-জি তরুণদের টানা আন্দোলন সেই ধারণাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
দীর্ঘদিনের বিক্ষোভ, প্রতিবাদ ও জনমতের চাপে শেষ পর্যন্ত ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এই আন্দোলন শুধু ভারতের মধ্যেই আলোচনার জন্ম দেয়নি; বরং প্রতিবেশী শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও পাকিস্তানেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের তরুণদের প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়া টুডে।
ভারতের এই আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল এর ডিজিটাল সংগঠন কৌশল। প্রচলিত রাজনৈতিক প্রচারণার পরিবর্তে মিম, ইনস্টাগ্রাম রিলস এবং স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও ব্যবহার করে তরুণদের রাজপথে নামতে উদ্বুদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দমন-পীড়নের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে ঘটনাগুলো তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
পাকিস্তানি কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিলাল হাসান আন্দোলনে পাকিস্তানের অর্থায়নের অভিযোগকে ব্যঙ্গ করে বলেন, ‘অনেকে বলছেন পাকিস্তান নাকি এই আন্দোলনে অর্থ দিয়েছে। অথচ নিজেদের দেশ চালানোরই টাকা নেই, সেখানে অন্যদের অর্থায়ন করব কীভাবে?’
নিজ দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘ভারতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, আর আমাদের দেশে মানুষকেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। কেউ বেলুচ হলে সে জীবিত না মৃত, সেটাও জানা যায় না। এখানে এক প্লেট বিরিয়ানির জন্যও মানুষ বিক্রি হয়ে যায়।’
পাকিস্তানের অনেক তরুণের মতে, তাদের দেশে পাঞ্জাবি, পশতুন, সুন্নি ও শিয়া—বিভিন্ন পরিচয়ভিত্তিক বিভাজনের কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মতো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা কঠিন। পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা এবং জেনারেল জিয়াউল হকের শাসনামলে ছাত্র ইউনিয়ন নিষিদ্ধ হওয়ার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও তরুণদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে বলে তারা মনে করেন।
সব সীমান্ত ও রাজনৈতিক বিভেদ ছাপিয়ে ভারতের জেন-জি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিলাল হাসান বলেন, ‘দিনশেষে আমরা একে অপরকে গভীরভাবে বুঝি। কারণ আমরা একই বিচ্ছেদের সন্তান।’
অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের তরুণদের মধ্যেও ভারতের এই আন্দোলন নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
শ্রীলঙ্কার জনপ্রিয় কার্টুনিস্ট অবান্থা আরটিগালা এক কার্টুনে তুলে ধরেছেন, কীভাবে ‘ককরোচ’ নামে পরিচিত আন্দোলনকারীদের সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে ভারত সরকার।
নেপালের কাঠমান্ডুভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর অবিনাশ মিশ্র জানান, ভারতের এই আন্দোলন তাকে ২০২৫ সালে নেপালের তরুণদের আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
এসি//