কক্সবাজারের রামু, পেকুয়া ও সদর উপজেলায় পাহাড়ধস এবং বন্যার পানিতে ভেসে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) পৃথক ঘটনায় প্রাণ হারান এক কিশোর, এক শিশু ও এক গৃহবধূ।
নিহতরা হলেন—রামুর ঈদগড় ইউনিয়নের সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (১৩), পেকুয়ার মুশফিকুর রহিম (২১ মাস) এবং কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের রোজিনা আক্তার (৩০)।
রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নে পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে আসা লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া সাজিদুল ইসলামের মরদেহ চার দিন পর উদ্ধার করা হয়। শনিবার সকালে ঈদগাঁও উপজেলার গজালিয়া এলাকার ফুলেশ্বরী খালে মরদেহটি ভেসে উঠলে স্থানীয়রা স্বজনদের খবর দেন। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত সাজিদ ঈদগড় ইউনিয়নের হাসনাকাটা কোনারপাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। গত বুধবার বিকেলে অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢলের সময় লাকড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে তিনি নিখোঁজ হন।
রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া ও সুরতহাল শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বলিরপাড়া এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবে ২১ মাস বয়সী শিশু মুশফিকুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানায়, পরিবারের সদস্যরা রাতের খাবার খাওয়ার সময় শিশুটি অগোচরে বাড়ির উঠানে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটি সৌদি প্রবাসী নাছির উদ্দিনের ছেলে।
এদিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের কলাতলী ঝিরঝিরি পাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে রোজিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার জানায়, শনিবার রাতে টানা বৃষ্টির মধ্যে রান্নাঘরে অতিথিদের জন্য খাবার প্রস্তুত করছিলেন রোজিনা। এ সময় তার স্বামী সন্তানদের নিয়ে বাইরে গেলে রাত প্রায় ৯টার দিকে পাহাড়ধসে রান্নাঘরটি মাটিচাপা পড়ে এবং তিনি আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট উদ্ধার অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘ সময় মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় রোজিনাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলমান বন্যা, পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। জেলার অন্যান্য এলাকায় পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে মারা গেছেন আরও সাতজন।
কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।