দেশজুড়ে

যমুনার ভয়াল ভাঙনে বিপর্যস্ত চরাঞ্চলের মানুষ, ঝুঁকিতে ৩৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ সাবস্টেশন

তুহিন হোসেন, পাবনা প্রতিনিধি

বর্ষার শুরুতেই যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পাবনার বেড়া উপজেলার চরাঞ্চল। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ভারেঙ্গা ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ। একই সঙ্গে প্রায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি পল্লী বিদ্যুৎ সাবস্টেশনসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানও এখন হুমকির মুখে।

সম্প্রতি উপজেলার ভারেঙ্গা ইউনিয়নের কল্যাণপুর, লেওলাইপাড়া ও আশপাশের এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যমুনার তীব্র স্রোতে প্রতিনিয়ত নদীতীর ভেঙে পড়ছে। মুহূর্তেই নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকদের আবাদি জমি। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ শেষ সম্বলটুকু রক্ষার আশায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন।

কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা লুৎফর ও তার স্ত্রী মরিয়ম জানান, যমুনার ভাঙনে তারা ইতোমধ্যে তিনবার বসতবাড়ি হারিয়েছেন। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১০ বিঘারও বেশি আবাদি জমি। এবারও নদী তাদের বাড়ির একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। ফলে আবারও সর্বস্ব হারানোর শঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।

একই চিত্র লেওলাইপাড়া, কল্যাণপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামেও। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক ভাঙনে অন্তত ৫০টি বসতভিটা নদীগর্ভে চলে গেছে। বর্তমানে ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশন, একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থান সরাসরি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এসব স্থাপনাও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।

ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে যমুনার ভাঙনে চরাঞ্চলের মানুষ সর্বস্ব হারালেও স্থায়ী নদীশাসনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। ফলে বছরের পর বছর বাড়ছে দুর্ভোগ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারেঙ্গা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। নদীভাঙনের কারণে প্রতিবছরই নতুন নতুন পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা না হলে যমুনার ভয়াল গ্রাসে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে বেড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলছে। পাশাপাশি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে।

 

এমএ//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #যমুনা #নদী ভাঙন