ব্রাজিলকে ২–১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। তবে ম্যাচ শেষের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল শুধু আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোল বা ঐতিহাসিক জয় নয়; সবার নজর কেড়েছে নরওয়েজিয়ানদের অনন্য এক উদযাপনও।
শেষ বাঁশি বাজতেই খেলোয়াড়রা মাঠে সারিবদ্ধভাবে বসে পড়লেন। এরপর শুরু হলো বৈঠা চালানোর ভঙ্গি। সামনে ড্রামের তালে ছন্দ মিলিয়ে সেই উদযাপনের নেতৃত্ব দিলেন দলের তারকারা। গ্যালারিতে থাকা হাজারো সমর্থকও একই ছন্দে যোগ দিলেন। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের জন্ম দেয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এটি কোনো তাৎক্ষণিক উদযাপন নয়। এর নাম ‘ভাইকিং রো’—যার শিকড় নরওয়ের শতাব্দীপ্রাচীন ভাইকিং ঐতিহ্যে।
একসময় ভাইকিং যোদ্ধারা দীর্ঘ কাঠের যুদ্ধজাহাজে চড়ে উত্তাল সমুদ্র পাড়ি দিতেন। সেই জাহাজের গতি নির্ভর করত সবাই একসঙ্গে একই ছন্দে বৈঠা চালানোর ওপর। বর্তমানের ‘ভাইকিং রো’ উদযাপন সেই ইতিহাসকেই নতুনভাবে ফুটিয়ে তোলে। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা সারিবদ্ধভাবে বসে বৈঠা চালানোর প্রতীকী ভঙ্গি করেন, আর ড্রামের তালে সবাই একসঙ্গে ছন্দ মেলান। এর মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় দলীয় ঐক্য, সমন্বয় এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা।
দুই হাজার ছাব্বিশ বিশ্বকাপের শুরু থেকেই এই উদযাপন নরওয়ের সমর্থকদের অন্যতম পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। শুধু স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের রাস্তা, মেট্রো স্টেশন এবং জনসমাগমের নানা স্থানে নরওয়ের সমর্থকদের একই ভঙ্গিতে উদযাপন করতে দেখা গেছে।
তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পর ‘ভাইকিং রো’ যেন নতুন উচ্চতায় পৌঁছে যায়। ম্যাচে জোড়া গোল করে নায়ক হওয়া আর্লিং হালান্ডও সতীর্থদের সঙ্গে ড্রামের তালে সেই উদযাপনে অংশ নেন। মাঠে শুরু হওয়া মুহূর্তটি অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখোবার দেখা হয়।
রয়টার্স বলছে, ‘ভাইকিং রো’ এখন আর শুধু জয় উদযাপনের একটি ভঙ্গি নয়। এটি নরওয়ের জাতীয় পরিচয়, ঐতিহ্য এবং দলীয় সংহতির শক্তিশালী প্রতীক হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে যে গভীর বন্ধন তৈরি হয়েছে, এই উদযাপন সেই সম্পর্ককেই আরও দৃশ্যমান করে তোলে।
ব্রাজিলকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার পর রাজধানী অসলোতেও দেখা যায় একই আবহ। হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বৈঠা চালানোর প্রতীকী ভঙ্গিতে বিজয় উদযাপন করেন। ড্রামের তালে একসঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে তারা যেন পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দেন—এটি শুধু একটি ফুটবল দলের সাফল্য নয়; এটি একটি জাতির ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং গর্বেরও উদযাপন।
বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি নরওয়ের এই ব্যতিক্রমী উদযাপনও এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়। মাঠের সাফল্যের সঙ্গে শতবর্ষের ঐতিহ্যকে যেভাবে একসূত্রে গেঁথেছে নরওয়ে, তাতে ‘ভাইকিং রো’ ইতোমধ্যেই দুই হাজার ছাব্বিশ বিশ্বকাপের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্যগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
এসি//