'সাথী’ সিনেমার মাধ্যমে কলকাতা বাংলা চলচ্চিত্রে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী প্রিয়াংকা সরকার। জিৎ এর সঙ্গে তার জুটি আজও দর্শকের কাছে সমান জনপ্রিয়। তবে সুপারহিট সেই সিনেমার পর দীর্ঘ সময় টালিউডে আর নিয়মিত দেখা যায়নি তাকে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বিরতির কারণ জানিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন অভিনেত্রী।
কলকাতায় জন্ম হলেও ছোটবেলায় পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান প্রিয়াংকা। পরে সিঙ্গাপুরে কিছুদিন থাকার পর আবার কলকাতায় ফিরে পড়াশোনা করেন। সেই সময় ‘মিস ক্যালকাটা’ খেতাবও জেতেন তিনি। এরপর মুম্বাইয়ে গিয়ে মডেলিং ও অভিনয় শুরু করেন। তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সাফল্য ছিল হরনাথ চক্রবর্তীর পরিচালিত ‘সাথী’, যা কলকাতা বাংলা চলচ্চিত্রে নতুন ইতিহাস গড়েছিল।
প্রিয়াংকা জানান, চলচিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে রাজনীতি করে বাংলা সিনেমা থেকে তাকে দূরে সরানো হয়নি । বরং মুম্বাইয়ে একের পর এক হিন্দি সিনেমার প্রস্তাব পান তিনি। এরপর বিয়ে করে বেঙ্গালুরুতে স্থায়ী হন। তখন ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার সামলানোর কারণে কলকাতায় এসে টানা এক-দুই মাস শুটিং করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
অভিনেত্রীর জানান, সন্তানদের ছোটবেলায় তাদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সম্ভব হয়নি। তাই ধীরে ধীরে দক্ষিণী সিনেমার দিকে ঝুঁকতে হয়। সেখানে নিয়মিত কাজ করেছেন এবং এখনও কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে ছেলে-মেয়ে দুজনই কলেজে পড়াশোনা করছে। তাই আবারও বাংলা সিনেমায় নিয়মিত কাজ করতে আগ্রহী প্রিয়াংকা। ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্র পেলে অবশ্যই অভিনয় করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
‘সাথী’ সিনেমার ২৪ বছর পূর্তি প্রসঙ্গে প্রিয়াংকা জানান, এত বছর পরও দর্শক তার এবং জিৎ এর জুটিকে ভালোবাসেন এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। আগামী বছর সিনেমাটি রজতজয়ন্তী উদ্যাপন করবে। অনেক দর্শক ‘সাথী ২’ নির্মাণেরও দাবি জানাচ্ছেন। যদিও সেটি কবে বাস্তবায়ন হবে, তা এখনই বলতে পারেননি তিনি।
ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গেও কথা বলেন অভিনেত্রী। জানান, জিৎ এর সঙ্গে শুধু পেশাগত নয়, পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে। কলকাতায় এলে তাদের দেখা হয়, আবার জিৎ বেঙ্গালুরু গেলে তিনিও প্রিয়াংকার পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান।
সম্প্রতি ‘সেপ্টেম্বর ২১’ সিনেমার সুবাদে কান চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিয়েছেন প্রিয়াংকা। তবে সবকিছুর পরও বাংলা সিনেমায় নতুনভাবে নিজের জায়গা তৈরি করতে মুখিয়ে আছেন তিনি।
টালিউডে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেত্রী জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে কখনও কোনো নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হননি। বরং সবাই তাকে নিজের পরিবারের সদস্যের মতোই আগলে রেখেছেন। তবে দীর্ঘ সময় দূরে থাকার কারণে অনেক বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হারানোর আক্ষেপ রয়েছে তার। তারপরও বাংলা সিনেমার প্রতি দর্শকের ভালোবাসা এবং এই ইন্ডাস্ট্রির প্রতি সম্মানই তাকে বারবার ফিরে আসার অনুপ্রেরণা জোগায়।
পি/ডি