ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের পারিবারিক সম্পদের উৎস ও দলের অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে তথ্য জানার অধিকার (আরটিআই) আইনের আওতায় আবেদন করেছেন ভারতের গুজরাটের সুরতের সমাজকর্মী অমিত তিওয়ারি। একই সঙ্গে তিনি সিজেপির নিবন্ধন, অনুদানের উৎস এবং কর-সংক্রান্ত বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত দাবি করেছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অমিত তিওয়ারি মহারাষ্ট্র সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ভগবানরাও দীপকের আয়-সম্পদ তদন্তের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর কীভাবে তিনি ছেলে অভিজিৎ দীপকের যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করেছেন। উল্লেখ্য, অভিজিৎ দীপক সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরেছেন।
আরটিআই আবেদনে সিজেপির আর্থিক লেনদেন ও অনুদানের উৎস নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নিট কেলেঙ্কারির প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনের সময় দলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলায় আইনি সহায়তার জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে, সেই অর্থ কোথা থেকে আসছে—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অমিত তিওয়ারি।
এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ২৯এ ধারার আওতায় সিজেপি যথাযথভাবে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে কি না। তাঁর দাবি, আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন না থাকলেও দলটি রাজনৈতিক সংগঠনের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং আইনি সহায়তার জন্য বড় অঙ্কের অনুদান গ্রহণ করছে। তাই নিবন্ধন এবং অনুদানের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিব্বল সিজেপির আইনি লড়াইয়ের জন্য এক কোটি রুপি অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন। সেই অনুদানের ওপর ১৮ শতাংশ পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) প্রযোজ্য কি না, তা যাচাইয়ের জন্যও জিএসটি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন অমিত তিওয়ারি।
এদিকে মামলা প্রত্যাহার-সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও ককরোচ জনতা পার্টির মধ্যে নতুন করে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি মামলা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তবে এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় সিজেপি। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজন হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামবে।
এ অবস্থায় আন্দোলনকারীদের আইনি সহায়তার জন্য সংগৃহীত অর্থের উৎস ও ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আরটিআই আবেদনকারী অমিত তিওয়ারি।
এসি//