লাইফস্টাইল

বরফ পানিতে মুখ ডোবালে হতে পারে ‘আইস বার্ন’

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সকালের আয়নায় মুখ দেখার সেই মুহূর্ত—যেখানে একটু ফোলা ভাব, একটু ক্লান্ত ত্বক অনেককেই অস্থির করে তোলে। আর ঠিক সেখানেই সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন ‘বিউটি হ্যাক’—বরফ গলা ঠান্ডা পানিতে মুখ ডুবিয়ে ত্বককে টানটান আর উজ্জ্বল করে তোলার কৌশল। আলিয়া ভাট থেকে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া—বলিউড তারকাদের অনুসরণে অনেকেই এখন এই ট্রেন্ডে মজেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই কয়েক সেকেন্ডের শীতলতা কি সত্যিই ত্বকের জন্য আশীর্বাদ, নাকি ধীরে ধীরে তৈরি করছে অদৃশ্য ক্ষতি?

চিকিৎসা গবেষণার দৃষ্টিতে বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়।

‘স্কিন রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বরফ গলা ঠান্ডা পানিতে মুখ ডোবালে ত্বকের রক্ত সঞ্চালন কমে যেতে পারে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে শুষ্ক, সংবেদনশীল বা ব্রণপ্রবণ ত্বকের ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও বেশি দেখা যেতে পারে।

ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ত্বকের রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়। এতে সাময়িকভাবে ফোলা ভাব কমে মনে হলেও বাস্তবে ত্বকের ভেতরে রক্ত প্রবাহ কমে যায়, ফলে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা ক্ষত সেরে ওঠার প্রক্রিয়াও ধীর হয়ে যেতে পারে।

একই সঙ্গে ঠান্ডা পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলও কমিয়ে দেয়। শুরুতে ত্বক মসৃণ ও টানটান লাগলেও কিছু সময় পর তা শুষ্ক ও খসখসে হয়ে উঠতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে লালচে ভাব ও জ্বালাভাবও দেখা দেয়।

যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাদের জন্য এই অভ্যাস আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ত্বকের সুরক্ষামূলক স্তর দুর্বল হয়ে গিয়ে র‍্যাশ, অস্বস্তি এবং পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরও একটি উদ্বেগের বিষয় হলো, রোমকূপ সাময়িকভাবে সংকুচিত হলেও ভেতরে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া আটকে গিয়ে ব্রণ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সবচেয়ে গুরুতর ক্ষেত্রে, ভুলভাবে বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানিতে মুখ ডুবালে ‘আইস বার্ন’-এর মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে, যেখানে ত্বকের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আর্দ্রতা হারায় এবং ত্বক অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

 

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিউটি হ্যাক #কৌশ